দুর্গাপুজো মিটে গিয়েছে। আর তারপরই কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভার ভোট নিয়ে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, দল-প্রতীক দু’পক্ষই নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া। তাই দুই শিবিরই এখন প্রার্থী তালিকার চেয়ে দলের নাম এবং প্রতীক দখল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে। সুপ্রিম কোর্টে আগামী ৩০ অক্টোবর তারিখের মধ্যে অনেক বেশি সংখ্যায় হলফনামা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে খান খান হয়ে যায়। বিধায়কদের একটা অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে বিধানসভায় বিরোধী দলের আসনে বসে পড়েছে। সাংসদদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন।
এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট তৃণমূল এবার বাম এবং কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে আসন্ন পুরসভার নির্বাচনে জোট করে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে চাইছে। আর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী কলকাতার ২০৯টি এবং হাওড়ার ৬৮টি ওয়ার্ডে পুরসভার নির্বাচনে একাই প্রার্থী দিতে চাইছে। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী ১৩৭ কাউন্সিলরের একাংশ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়ে পদ্মফুল প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিন এনসিপিআই সাংসদের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন বলে সূত্রের খবর। তবে ৩০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয় তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
দু’পক্ষই এখন নির্দিষ্ট অফিস ঘরে বসে বিধানসভা ভিত্তিক ভোটার তালিকা ধরে ধরে কর্মী পিছু চার পাতার হলফনামা পূরণ করছে। ওই হলফনামা বেশি সংখ্যায় জমা করে কালীঘাট-তৃণমূল এবং ঋত তৃণমূল দু’পক্ষই দেখাতে চাইছে তাদের সঙ্গেই রাজ্যের বেশি সংখ্যায় দলীয় কর্মী রয়েছেন। যদিও কালীঘাট তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, পুলিশ দিয়ে ঋতব্রত শিবির হলফনামা পূরণ করছে। বিজয়া দশমীর পর শুক্রবারও দফায় দফায় জেলা থেকেও বহু কর্মী কালীঘাটে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করেন। দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি পুরসভা নির্বাচন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আখরুজ্জামান উপস্থিত না থাকলেও ছিলেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, মদন মিত্র, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। সবাই হলফনামা নিয়ে নানা জেলায় প্রস্তুতির খবর নেন। কথা হয় পুরসভা ভোটের প্রস্তুতি নিয়েও। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন ঋতব্রত শিবিরকে আসল তৃণমূল বলে দিতে চলেছেন। সেক্ষেত্রে এনসিপিআই সাংসদরা সেখানে যোগ দিয়ে দেবেন। তখন দলবিরোধী মামলা অনেকটা লঘু হয়ে যাবে। আর তাই সময় চেয়ে যাচ্ছেন সুদীপরা। এই ঘটনা যদি ঘটে তাহলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। যার রায় মিলতে সময় লেগে যাবে বিস্তর।




