• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 23 October, 2026

ধর্মঘটের জেরে অন্ধকার ৫০ হাজার বাড়ি, ১৮০০ কারখানা: বেসরকারি লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন ৪০ হাজার বিদ্যুৎকর্মী

বেসরকারি সংস্থাকে বিদ্যুৎ বণ্টনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিবাদে হরিয়ানায় ৪০ হাজার কর্মীর তিন দিনের ধর্মঘট। গুরুগ্রাম ও নুহ জুড়ে ৫০ হাজার বাড়ি ও ১৮০০ কারখানা বিদ্যুৎহীন।

ধর্মঘটের জেরে অন্ধকার ৫০ হাজার বাড়ি, ১৮০০ কারখানা: বেসরকারি লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন ৪০ হাজার বিদ্যুৎকর্মী

Haryana Power Strike Hits 50,000 Homes, 1,800 Factories (Image: Video Screen Grab)

বেসরকারি সংস্থাকে বিদ্যুৎ বণ্টনের লাইসেন্স দেওয়ার বিরোধিতায় হরিয়ানায় শুরু হয়েছে তিন দিনের ধর্মঘট। বিদ্যুৎকর্মীদের এই বেনজির আন্দোলনের জেরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে (Haryana power strike)। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মী এই ধর্মঘটে শামিল হওয়ায় গুরুগ্রাম, ফরিদপুর, নুহ এবং রেওয়ারি জেলায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এর জেরে ৫০ হাজারেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং গুরুগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলিতে প্রায় ১,৮০০টি কারখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্দোলনের সূত্রপাত

 গত ১৯ অক্টোবর হরিয়ানা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (HERC) একটি নির্দেশিকায় গুরুগ্রাম এবং নুহ জেলার জন্য ‘ইলেভেন পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড’ (Eleven Power Private Limited) নামক একটি বেসরকারি সংস্থাকে ২৫ বছরের জন্য সমান্তরাল বিদ্যুৎ বণ্টন লাইসেন্স (parallel electricity distribution license) প্রদান করে। এই সিদ্ধান্তের পরেই ফুঁসে ওঠে রাজ্য বিদ্যুৎ বোর্ডের কর্মীরা। হরিয়ানা ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স জয়েন্ট স্ট্রাগল ফ্রন্টের ডাকে গত বুধবার রাত থেকে তিন দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতি বা ধর্মঘট শুরু হয়।বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় বেসরকারি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু করেছেন কর্মীরা।

গুরুগ্রামে চরম বিশৃঙ্খলা

 ধর্মঘটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাইবার সিটি গুরুগ্রামে। সেখানে সার্কেল ১ এবং সার্কেল ২-এর প্রায় ৯৮ শতাংশ কর্মী কাজে যোগ না দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলার জন্য কেউ ছিলেন না। হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ না পেয়ে হেল্পলাইনে ফোন করলেও পরিষেবা মেলেনি। অনেক এলাকায় টানা ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। ইনভার্টারগুলির ব্যাকআপ শেষ হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। পানীয় জলের পাম্প ও বুস্টিং স্টেশনগুলি বন্ধ থাকায় জল সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান।

 অন্যদিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৩৭ এবং কাদিহুরের মতো প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলিতে প্রায় ১,৮০০টি কারখানা বিদ্যুৎ সংকটের কবলে পড়েছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে গ্র্যাপ (GRAP) বিধির কারণে ডিজেল জেনারেটর বা ডিজিসিট ব্যবহারের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিকল্প উপায়ে কারখানা সচল রাখাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিল্পপতিরা।

 সরকারের অবস্থান ও আইনি লড়াই

 পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছে হরিয়ানা সরকারও। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এইচইআরসি (HERC)-এর এই লাইসেন্স দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল ফর ইলেকট্রিসিটি’তে (APTEL) আইনি লড়াই চালাবে তারা। একই সঙ্গে আন্দোলনরত কর্মীদের কাজে ফিরে আসার জন্য মরিয়া আবেদন জানানো হয়েছে এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে পুলিশি সহায়তায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ আংশিক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলার কথা থাকায় হরিয়ানার শিল্প ও জনজীবনে সংকট কাটানোই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।