• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 23 October, 2026

প্রথম ভারতীয় হিসেবে অস্কার ক্লেন মেডেল বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেনের

বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেনের মুকুটে নতুন পালক! প্রথম ভারতীয় হিসেবে ‘অস্কার ক্লেন মেডেল’ পেলেন তিনি। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য

প্রথম ভারতীয় হিসেবে অস্কার ক্লেন মেডেল বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেনের

বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেনের মুকুটে নতুন পালক! প্রথম ভারতীয় হিসেবে ‘অস্কার ক্লেন মেডেল’ পেলেন তিনি। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান পেলেন বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানী। এর আগে স্টিফেন হকিং ও পিটার হিগসের মতো কিংবদন্তি বিজ্ঞানীদের নামও জড়িয়েছে এই পুরস্কারের সঙ্গে। ‘স্ট্রিং থিওরি’ নিয়ে গবেষণার জগতে অশোক সেনের অবদান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত।

বর্তমানে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের অধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসের সঙ্গে যুক্ত অশোক সেন। মহাবিশ্বের মৌলিক রহস্য উন্মোচনে ‘স্ট্রিং থিওরি’ নিয়ে তাঁর গবেষণা পদার্থবিজ্ঞানের জগতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের মৌলিক কণিকা ও প্রকৃতির বিভিন্ন বলকে একটি সমন্বিত কাঠামোয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। সেই গবেষণায় অশোক সেনের অবদান তাঁকে বিশ্বের অন্যতম বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক রাজেশ গোপাকুমার এই সম্মান নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, অতীতে যাঁরা এই পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের তালিকাই এর মর্যাদা বুঝিয়ে দেয়। এই স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে অশোক সেনের অবস্থানকে যথাযথভাবে তুলে ধরেছে।

১৯৫৬ সালে কলকাতায় জন্ম অশোক সেনের। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এই শহরেই। শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেখান থেকে স্নাতক হওয়ার পর আইআইটি কানপুরে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন তিনি। এরপর গবেষণার জগতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

স্ট্রিং থিওরি নিয়ে তাঁর গবেষণা দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। তাঁর গবেষণাপত্র ও তাত্ত্বিক কাজ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় প্রভাব ফেলেছে। ২০০১ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০১৩ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন তিনি। ২০১২ সালে পান ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স পুরস্কার। এই পুরস্কারের বিপুল অর্থমূল্যও তাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় নিয়ে এসেছিল। এবার অস্কার ক্লেন মেডেল প্রাপ্তি তাঁর দীর্ঘ গবেষণাজীবনের মুকুটে আরও একটি উজ্জ্বল পালক যোগ করল।

তবে একের পর এক আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করেও জীবনযাপনে সাদামাটা অশোক সেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে গবেষণাতেই বেশি মনোযোগী তিনি। প্রয়াগরাজের হরিশচন্দ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন তাঁর সাধারণ জীবনযাপন ও সাইকেলে যাতায়াতের কথাও বহুবার আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত জীবনের অনাড়ম্বরতা আর গবেষণার গভীরতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই স্বতন্ত্র অশোক সেন।

সত্তর বছর বয়সেও মহাবিশ্বের মৌলিক রহস্যের সন্ধানে নিরলস এই বাঙালি বিজ্ঞানী। তাঁর নতুন সম্মান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণার মঞ্চে ভারতীয় প্রতিভার স্বীকৃতিও বটে।