নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢুকে পড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই নেতা সৌরভ দাস (Sourav Das) ও আশুতোষ রাঙ্কা(Ashutosh Ranka)। পাঁচদিনের জেল হেফাজত হয়েছিল তাঁদের। এবার জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ল আরও দু’দিন। সোমবার স্পেশ্যাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
কেন দুই নেতার হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হল, তার ব্যাখ্যা দিয়ে লিখিত নির্দেশ জারি করেছেন স্পেশ্যাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ। নির্দেশে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ যন্তন মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়ে জমায়েত করেছিলেন সৌরভ ও আশুতোষ। পাশাপাশি সেখানে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকেও প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে পুলিশি নোটিসের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। ১০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। সোমবার দুপুরে পুলিশি নোটিসের বিরোধিতা করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে ঢুকে গ্রেপ্তার, সিজেপির দুই নেতার পাঁচ দিনের জেল হেফাজত, ছাড়া পেলেন অজিঙ্ক
দিল্লি পুলিশের দাবি, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিজেপি (CJP) নেতারা বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। তা সত্ত্বেও সমাজমাধ্যমে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সমস্ত শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সিজেপি (CJP) নেতাদের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সেই শর্ত পালন করেননি। সৌরভ ও আশুতোষের আইনের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই এবং তাঁরা ভবিষ্যতেও আইন ভাঙতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আদালত।
অন্যদিকে, সৌরভ ও আশুতোষের আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের জন্য দ্রুত জামিনের আবেদন জানান। ভবিষ্যতে তাঁরা কোনও আইন ভাঙবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়। আইনজীবীদের দাবি, দুই নেতা আলাদা আলাদা ভাবে যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন।
সিজেপির অভিযোগ, নেতাদের বিরুদ্ধে যে ভাবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপের নামে আটকে রাখা হচ্ছে, তা আসলে ‘আইনি’ প্রক্রিয়ার নামে প্রহসন এবং প্রশাসনের অতি সক্রিয়তা। সৌরভ ও আশুতোষের জামিন না মঞ্জুর হওয়াকে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলেও দাবি করেছে দলটি।
আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়, সিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের
১৩ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই আহ্বায়ক সৌরভ ও আশুতোষকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরদিন ভোরে দলের আইনি প্রধান রত্না সিং জানান, সৌরভ-আশুতোষকে গ্রেপ্তার করে পার্লামেন্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও পরে পুলিশ জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই সিজেপি (CJP) প্রধান অভিজিৎ দীপকে-সহ সৌরভ ও আশুতোষকে সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে আদালত থেকে এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে জামিন পান সৌরভেরা। জামিন পাওয়ার দু’দিনের মধ্যেই তাঁরা ফের যন্তর-মন্তরে পতাকা নিয়ে ঢুকে পড়েন। তাঁর আগেই দিল্লি পুলিশ যন্তর-মন্তরে কোনও রকম বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
দেখুন:




