অষ্টমীতে সামনে এল চোরবাগান কাণ্ডে মৃতদের ময়নাতদন্তের আরও তথ্য। রবিবার জানা গিয়েছিল, ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়ায় অর্থাৎ বুকের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। তবে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর অন্য কারণও আছে বলে মনে করা হয়েছিল। সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এবার মৃতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভিড়ের চাপে অন্তত ৬ জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। সেই ভাঙা হাড় ঢুকে যায় ফুসফুসে। এমনকী দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু থেকে শুরু করে হাত-পা ভাঙা, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণেরও উল্লেখ রয়েছে প্রাথমিক রিপোর্টে।
সোমবার অষ্টমীতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়ায় দম বন্ধ হয়ে। ভিড় এবং পায়ের চাপে পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে গেঁথে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। আর একজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হেড ইনজুরি। তাঁর মাথায় আঘাত লেগে মস্তিষ্কের ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়। খুলিতে চোট লাগার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এই ১৮টি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে এবং একজনের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে এনআরএস হাসপাতালে। মোট পাঁচজন ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ময়নাতদন্ত করেছেন।
শরীরের নানা অংশেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে অনেকের। এমনকী ময়নাতদন্তে পাওয়া এই তথ্য চোরবাগানের ঘটনার ভয়াবহতাকেই আরও প্রকট করে তুলেছে। যা নিয়ে দুর্গাপুজোর আবহে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চোরবাগান এলাকার মানুষের কাছে অষ্টমীর দিনও এই আলোচনা জোরকদমে চলেছে। সেখানে এখনও থমথমে পরিবেশ বিদ্যমান। বাড়ির জানালাগুলি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। উৎসবের মরশুমে যেন শ্মশানের নীরবতা বিরাজ করছে। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাশে রয়েছেন।
তাছাড়া শনিবার চোরবাগাব সার্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সন্ধ্যায় হঠাৎ বৃষ্টি আসে এলাকায়। তখন দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়ও হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে মণ্ডপে ঢোকা এবং বেরনো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এখনও পর্যন্ত ১৯ জন মারা গিয়েছেন ওই ঘটনায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি এবং আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জনই মহিলা। আর একজন ৭ বছরের শিশু রয়েছে। কেউ ছিলেন কলকাতার, কেউ জেলার আবার অনেকে এসেছিলেন ভিন রাজ্য থেকে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন।




