• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 16 October, 2026

উমা এল ঘরে: ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন, দেবীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার আয়োজন

‘বোধন’ শব্দটি প্রচলিত অর্থে ব্যবহৃত হলেও শাস্ত্রীয় মতে একে ‘কল্পরম্ভ’ বলা হয়। ‘কল্প’ বলতে বোঝায় শাস্ত্রনির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার ও উৎসবের বিধান। আর ‘আরম্ভ’ অর্থ সূচনা

উমা এল ঘরে: ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন, দেবীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার আয়োজন

Image: AI নির্মিত

ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় মণ্ডপের সামনে থাকা বেলগাছের শাখায় জ্বলছে প্রদীপ। চারপাশে ধূপের গন্ধ, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরির হয়ে উঠেছে পুজোপ্রাঙ্গন। বেলতলায় জড়ো হয়েছেন এয়োস্ত্রীরা। নিষ্ঠা আর ভক্তিভরে চলছে বেলবরণের আচার। দেবী বেলতলায় উপস্থিত হয়েছে। বেলবরণ শেষ হলেই শুরু হবে মায়ের বোধন। ঘুম ভেঙে জেগে উঠবেন দেবী, সূচনা হবে দুর্গোৎসবের।

এই বোধনের আয়োজন কেন করা হয়, তা জানেন? কী এর তাৎপর্য? পুজোর মূল আচার শুরু হওয়ার আগে কেনই বা দেবীর ঘুম ভাঙানোর প্রয়োজন হয়। ‘বোধন’ শব্দটি প্রচলিত অর্থে ব্যবহৃত হলেও শাস্ত্রীয় মতে একে ‘কল্পরম্ভ’ বলা হয়। ‘কল্প’ বলতে বোঝায় শাস্ত্রনির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার ও উৎসবের বিধান। আর ‘আরম্ভ’ অর্থ সূচনা। অর্থাৎ পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা এবং দেবীকে জাগিয়ে তোলা। এটি হল দুর্গোৎসবের মূল পর্ব।

Image: IANS

শাস্ত্র মতে দেবতাদের ছয় মাস দিন এবং বাকি ছয় মাস রাত। মাঘ থেকে আষাঢ় মাস দিন ধরা হয় এবং শ্রাবণ থেকে পৌষ মাস রাত মনে করা হয়। সেই হিসাব ধরলে শরৎকালে দেবী নিদ্রামগ্ন থাকেন। তাই পুজোর আগে তাঁকে জাগিয়ে তোলার জন্যই বোধনের আয়োজন।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বেলগাছ ছাড়া দুর্গাপুজো অসম্পূর্ণ, জেনে নিন এর পিছনের পৌরাণিক কাহিনি?

হঠাৎ দেবী নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তোলা উচিত নয়। তাই মন্ত্রপাঠ ও নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তাঁর নিদ্রাভঙ্গ করা হয়। সেই কারণেই দুর্গাপুজোর সূচনায় বোধন এত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বোধনের রীতি এক নয়। বংশপরম্পরায় যেসব বনেদি বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে, সেখানে মূলত দু-ধরনের কল্পারম্ভের প্রচলন রয়েছে। নবম্যাদি কল্পারম্ভ ও প্রতিপদাদি কল্পারম্ভ।

Image: IANS

নবম্যাদি কল্পারম্ভে কৃষ্ণপক্ষের নবমী থেকে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী পর্যন্ত মোট ১৩ দিন ধরে পুজোর আচার অনুষ্ঠান চলে। অন্যদিকে প্রতিপদাদি কল্পারম্ভে মহালয়ার অমাবস্যার পরদিন, প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজোর প্রস্তুতি ও আচার। এই রীতি অনুসারে ষষ্ঠী পর্যন্ত ছয় দিন ধরে চলে অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো): পটচিত্র থেকে ঢাকের বাদ্যি, ডালাসের দুর্গাপুজোয় বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিশেল

সর্বজনীন বা বারোয়ারি দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে ১৩ দিন কিংবা ছয় দিন ধরে বোধনের আচরণ পালন করা সম্ভব নয়। তাই ষষ্ঠীর দিনেই সম্পন্ন হয় দেবীর বোধন। এই রীতির নাম ‘ষষ্ঠ্যাদি বোধন’। শহর থেকে গ্রাম—অসংখ্য সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় এই রীতি মেনেই দেবীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তোলা আচার পালন করা হয়।

তাই ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বেলতলায় প্রদীপ জ্বলে, শঙ্খ বাজে, উলুধ্বনিতে মুখরিত হয় চারপাশ। মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবীকে জানানো হয় আবাহন। সেই আহ্বানে মিশে থাকে এক চিরন্তন প্রার্থনা—হে উমা, হে মা, হে ধরিত্রীকন্যা তুমি জেগে ওঠো। তোমার আলোয় উদ্ভাসিত হোক পৃথিবী। শস্যে ভরে উঠুক মাঠ, প্রাণে ভরে উঠুক জীবন আর অন্ধকার অবসান ঘটিয়ে নেমে আসুক আলোর উৎসব।

দেখুন: