শনিবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ পঞ্চম টি-টোয়েন্টি কার্যত ফাইনাল।
ঘরের মাঠে সিরিজ জিততে হলে শুধু বড় রান করলেই হবে না, ব্যাটিংয়ের ভুলত্রুটিও শুধরোতে হবে শ্রেয়স আইয়ারদের। পাশাপাশি, ভারতীয় দলের বোলিংয়ের দুর্বলতা ঢাকতে কুলদীপ যাদবকে প্রথম একাদশে ফেরানোর ভাবনাও রয়েছে।
সিরিজের প্রথম চারটি ম্যাচে রান উঠেছে প্রচুর। কিন্তু সেই রানের উৎসবের আড়ালেই ভারতীয় দলের ব্যাটিংয়ের বেশ কিছু দুর্বলতা ঢাকা পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে, ওপেনিং জুটির ধারাবাহিকতার অভাব এবং মাঝের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা ভাবাচ্ছে দল পরিচালন সমিতিকে। তার ওপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের বিধ্বংসী মেজাজ ভারতীয় বোলারদের বার বার চাপে ফেলেছে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল ভারত। তৃতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছিলেন শ্রেয়সরা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ২৫০ রান তাড়া করে জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ ম্যাচে ২৪ রানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় ক্যারিবিয়ানরা। ফলে শেষ ম্যাচে দুই দলের কাছেই হিসাব পরিষ্কার—জিতলে সিরিজ় পকেটে, হারলে হতাশা।
সঞ্জু-অভিষেকের ওপেনিং জুটি নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের সমস্যা শুরু হচ্ছে ওপেনিং থেকেই। সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা ব্যক্তিগত ভাবে ভাল ইনিংস খেললেও জুটি হিসাবে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। চারটি ম্যাচে তাঁদের ওপেনিং জুটির রান যথাক্রমে ২৯, ৪২, ৭ এবং ৬০।
হায়দরাবাদে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৬০ রানের জুটি গড়েছিলেন সঞ্জু ও অভিষেক। কিন্তু সেই জুটির ৫৬ রানই এসেছিল সঞ্জুর ব্যাট থেকে। অভিষেক করেছিলেন মাত্র ২ রান। ফলে ওপেনিং জুটির সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।
শুধু ওপেনাররাই নন, মাঝের সারির ব্যাটারদের পারফরম্যান্সও চিন্তায় রাখছে ভারতকে। ইশান কিষাণ, অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এবং নমন ধীর বড় রান করতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে লখনউয়ে শতরান করেছিলেন শ্রেয়স। কিন্তু তার পরের তিন ম্যাচে তাঁর রান যথাক্রমে ৪০, ১ ও ১৬।
ইশানও তিনটি ইনিংসে করেছেন ৪৩, ৩৭ ও ৬ রান। অন্য দিকে, নমনের রান ৪, ১০ ও ০। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দিচ্ছে, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মাঝের সারিতে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।
চতুর্থ ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরও একটি সমস্যা সামনে এসেছে। ১২.১ থেকে ১৪.৪ ওভারের মধ্যে টানা ১৮টি বল থেকে কোনও বাউন্ডারি আসেনি তিলক বর্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডির ব্যাটে। রান তোলার গতি কমে যাওয়ায় শেষ দিকে প্রয়োজনীয় রানরেট বেড়ে যায়। তখন প্রতি ওভারে দুই-তিনটি বাউন্ডারির প্রয়োজন থাকলেও তা পাওয়া যায়নি।
বোলিংয়ে ভরসা কুলদীপ?
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে ভারতীয় শিবিরে। বিশেষ করে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা যেভাবে বড় রান তুলছেন, তাতে মাঝের ওভারগুলিতে রান আটকে রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কুলদীপ যাদবকে প্রথম একাদশে ফেরানোর কথা ভাবতে পারে ভারত। তৃতীয় ও চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে দলে জায়গা হয়নি বাঁহাতি এই চায়নাম্যান স্পিনারের। তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাঝের ওভারগুলিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রানের গতি কমানোর চেষ্টা করতে পারে দল।
এ বারের সিরিজে অর্শদীপ সিং ও অক্ষর পটেল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যাটিং সহায়ক পিচে তাঁদের কার্যকারিতা কিছুটা কমেছে। প্রিন্স যাদব, ময়ঙ্ক যাদব, নমন ধীর এবং নীতীশ রেড্ডিও ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের আটকাতে পারেননি।
তবে শুধু বোলারদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। যে ধরনের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ম্যাচগুলি হচ্ছে, তাতে বোলারদের কাজ কঠিন। তার পরেও অভিজ্ঞ কুলদীপকে ফেরালে ভারতীয় আক্রমণে বৈচিত্র বাড়তে পারে। বিশেষ করে, শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ড ক্রিজে থিতু হয়ে গেলে তাঁদের রান তোলা আটকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
হোপ-রাদারফোর্ডকে দ্রুত ফেরানোই লক্ষ্য
সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক শাই হোপ এবং শেরফেন রাদারফোর্ড। চার ম্যাচের পরে হোপের রান ২৬১, রাদারফোর্ডের ২২১। দু’জনেই ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে রান করছেন।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইন্দোরে ১৪ রানে জিতেছিল ভারত। সেই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটারদের চাপে রাখতে পেরেছিলেন ভারতীয় বোলাররা। শেষ ম্যাচেও হোপ ও রাদারফোর্ডকে দ্রুত ফেরাতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলার সুযোগ থাকবে শ্রেয়সদের সামনে।
এই সুযোগে ক্যারিবিয়ান বাহিনীও সিরিজ জিতে দেশে ফিরতে মরিয়া। ফলে বেঙ্গালুরুতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সিরিজ় জয়ের জন্য ভারতের উপর প্রত্যাশার চাপ বেশি থাকবে।
বৃষ্টির চোখরাঙানি বেঙ্গালুরুতে
ম্যাচের আগে আরও একটি চিন্তা আবহাওয়া। গত কয়েক দিন ধরেই বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবারও বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে দুই দলের লড়াই দেখার জন্য আবহাওয়ার দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ পঞ্চম টি-টোয়েন্টি। জিও হটস্টার ও স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্কে সরাসরি দেখা যাবে এই ম্যাচ।
ব্যাটিংয়ের ভুল শুধরে সিরিজ জিততে পারবেন শ্রেয়সরা, নাকি হোপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ম্যাচও জিতে বাজিমাত করবে? উত্তর মিলবে উদ্যান নগরীতেই।




