• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 15 October, 2026

মুখ্যসচিবকে ‘ভোট চোর’ বলা যাবে না, মুছতে হবে সমাজমাধ্যমের পোস্ট, মহুয়াকে নির্দেশ আদালতের

তাছাড়া আলিপুর আদালতের অভিমত, এসআইআর বা সরকারি নীতি নিয়ে জনস্বার্থের পরিসরে যে কোনও আলোচনা বা সমালোচনা করার

মুখ্যসচিবকে ‘ভোট চোর’ বলা যাবে না, মুছতে হবে সমাজমাধ্যমের পোস্ট, মহুয়াকে নির্দেশ আদালতের

Manoj Agarwal-Mahua Maitra Photo-ANI

মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোট চোর’ তকমা দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এমন আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মহুয়া মৈত্রের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করল আলিপুর আদালত। বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মুখ্যসচিবের মানহানি হতে পারে অথবা তাঁকে ‘ভোট চোর’ বা বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত করে কোনও বক্তব্য তৃণমূল সাংসদ সমাজমাধ্যমে বা অন্য কোনও প্রচার মাধ্যমে পোস্ট, শেয়ার করতে পারবেন না। এদিন আলিপুর আদালতের শুনানিতে বিচারপতির কড়া নির্দেশ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছতে হবে মহুয়া মৈত্রকে। লিখিতভাবে ক্ষমাও চাইতে হবে তাঁকে।

আর সমাজমাধ্যম অথবা অন্য কোথাও মুখ্যসচিবকে নিয়ে এমন কোনও মানহানিকর মন্তব্য করা যাবে না। এই মামলার পরবর্তী জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ। গত ৩ অক্টোবর এবং ৬ অক্টোবর সাংসদ মহুয়া মৈত্র যে সমস্ত পোস্ট সমাজমাধ্যমে করেছিলেন, আদালতের অর্ডার হাতে পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেগুলি তাঁকে মুছে ফেলতে হবে। এই নির্দেশ কেন স্থায়ীভাবে বহাল রাখা হবে না সেটার কারণ দর্শিয়ে মহুয়া মৈত্রকে নোটিসও পাঠিয়েছে নিম্ন আদালত। সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ব্যাখ্যা ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রচুর ‘বৈধ’ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এভাবে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে যাঁর নেতৃত্বে, তিনি তো ‘ভোট চোর’। মহুয়া মৈত্র পোস্টে লেখেন, ‘দেশ এবার আপনাকে ধাওয়া করবে। ছাড় পাবেন না।’

আর এই মামলার পর্যবেক্ষণে নিম্ন আদালত জানিয়ে দিয়েছে, মহুয়ার পোস্টগুলিতে শুধুমাত্র এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করা হয়নি, বরং মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সাংসদ আদালতে উপযুক্ত কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। তাই ওই অভিযোগগুলির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়েই সন্দেহ আছে। মহুয়ার বিরুদ্ধে মুখ্যসচিব আলিপুর আদালতে জানিয়েছিলেন, মহুয়ার এসব মন্তব্য মানহানিকর। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি, কোনও ভোট চুরি বা কারচুপি নয়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আইন মেনে এসআইআর করা হয়েছে। কোনও বেআইনি কাজ নয়।

তাছাড়া আলিপুর আদালতের অভিমত, এসআইআর বা সরকারি নীতি নিয়ে জনস্বার্থের পরিসরে যে কোনও আলোচনা বা সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই আছে। তবে ওই সমালোচনার আড়ালে ব্যক্তিগতভাবে কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করা যায় না। সেদিক থেকে মহুয়া মৈত্রের পোস্ট যথেষ্ট আপত্তিকর। তাঁকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই পোস্ট মুছতে হবে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের মানহানিকর মন্তব্য করবেন না বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।