ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয়ের খেতাব জেতার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার হায়দরাবাদের উপ্পল স্টেডিয়ামে নামে ভারত। দলে কোনো পরিবর্তনই হয়নি। টস জিতে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাট করতে পাঠান শ্রেয়স আইয়ার। কিন্তু যে উচ্চতার রানের পাহাড় গড়ে তারা, তাতে ভারতের কাজ বেশ কঠিন হয়ে যায়।
শ্রেয়সদের জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্যের সামনে দাঁড় করায় তারা। শাই হোপের ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসই এই রানের ভিত। সারা ইনিংসে তিনটির বেশি উইকেট তুলতে পারলেন না ভারতের বোলাররা।
২-১-এ এগিয়ে থাকা ভারত এ দিন টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। অধিনায়ক শ্রেয়স জানান, উপ্পল স্টেডিয়ামের উইকেট যেহেতু নতুন করে তৈরি করা হয়েছে, তাই ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং দেখে বুঝে নিতে চান, সেই উইকেটে ঠিক কী রকম আচরণ করতে চলেছে।
সাই হোপ-রা ব্যাট হাতে মাঠে নেমেই অবশ্য বুঝতে পারেন, এ হল রানের খনি। ছ’ওবারে ৭৯ রান তোলেন তাঁরা। দশ ওভারে ১১৮। ১৫ ওভারে ১৭৭। প্রতি পাঁচ ওভার অন্তর অবশ্য একটি করে উইকেটও খোয়ায় তারা। তবে শাই হোপ ছিলেন অবিচল। অর্শদীপ, প্রিন্স যাদব, অক্ষর প্যাটেলরা দফায় দফায় জুয়েল অ্যান্ড্রু (২১), শিমরন হেটমায়ার (৩৩), রভম্যান পাওয়েল (২৪)-দের ফিরিয়ে দিলেও হোপকে টলাতে পারেননি।
দ্বিতীয় ওভার থেকেই এ দিন গিয়ার তুলতে শুরু করেন ক্যারিবিয়ানরা। অর্শদীপকে একটি ছয় ও দুটি চার হাঁকিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই ১৭ রান তোলেন অ্যান্ড্রু। ময়ঙ্ক যাদব প্রথম ওভারে তেমন রান খরচ না করলেও তাঁর দ্বিতীয় ওভারে ২০ রান দেন। পঞ্চম ওভারে অক্ষর প্যাটেল বল করতে এলে দ্বিতীয় বলেই অ্যান্ড্রুকে এলবিডব্লু-র ফাঁদে ফেলেন।
হেটমায়ার এসে শুরুতেই অর্শদীপকে একই ওভারে দুটি বাউন্ডারি ও একটি ছয় হাঁকিয়ে ইনিংস শুরু করেন। সেই ওভারে ১৯ রান দেন অর্শদীপ। পরের ওভারে অক্ষরকেও দুটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। নমন ধীরের এক ওভারেও হোপ একটি করে চার ও ছয় হাঁকান এবং হেটমায়ার একটি ওভার বাউন্ডারি মারেন। ১২ বলে ৩৩ রান করে শেষ পর্যন্ত প্রিন্স যাদবের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান হেটমায়ার। প্রথম ওভারের পর অক্ষরের দশ নম্বর ওভারটিই ছিল সবচেয়ে কম খরুচে। এই ওভারে রভম্যান পাওয়েল ও হোপ কোনো ঝুঁকি নেননি।
তবে ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে তাঁরা অক্ষরকে কার্যত তুলোধোনা করেন। এই ওভারে পাওয়েল দুটি চার ও একটি ছয় হাঁকান এবং হোপ একবার তাঁকে সোজা গ্যালারিতে পাঠান। তবে পাওয়েল পরের ওভারেই অর্শদীপের বলে যখন স্টাম্পের পিছনে সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসে বল জমা করে ফিরে যান, তখন তাঁর খাতায় ২৪ রান।
অন্যদিক দিয়ে এ দিন নাগাড়ে রান করে যান শাই হোপ। ২৮ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি। দুটি চার ও চারটি ছয় হাঁকিয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছন তিনি। নীতিশ কুমার রেড্ডি যখন ইনিংসের শেষ ওভার করতে আসেন, তখন তিনি একশো থেকে ১১ রান দূরে। চার বল হয়ে যাওয়ার পরেও যখন সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি, তখন শেষ দুটি বলই সোজা গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন হোপ। প্রথমটা মিড অনের ওপর দিয়ে, দ্বিতীয়টি লং অনের ওপর দিয়ে। শেষেরটি বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে তালুবন্দি করার চেষ্টা করেছিলেন তিলক বর্মা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। এই নিয়ে তৃতীয় টি টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি হোপের।




