প্রতিভা রয়েছে, রান করার ক্ষমতাও রয়েছে। আইপিএলে নজর কেড়েছে তার ব্যাটিং। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অভিষেক হয়ে গিয়েছে। তবু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম তিনটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি বৈভব সূর্যবংশী!
আর এতেই বেশ চটেছেন বৈভবের ছোটবেলার কোচ মনীশ ওঝা। ভারতের এই কিশোর ওপেনারকে টানা মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না ওঝা। সরাসরি আক্রমণ করেছেন কোচ গৌতম গম্ভীর ও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। বলেন, ‘ভারতীয় দলের কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে!’
আজ গৌতম গম্ভীরের ৪৪ তম জন্মদিন। ৪৫-এ পা রাখার দিন অনেক শুভেচ্ছা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হজম করতে হল কড়া সমালোচনারও।
আইপিএল ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন বৈভব। ২০২৬-এর জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। আটটি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৪৬ রান। স্ট্রাইক রেট ১৮৬।
কিন্তু জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পরেও নিয়মিত প্রথম একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না তিনি। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর ভারতের ১৯টি ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই প্রথম একাদশের বাইরে ছিলেন বৈভব।
বৈভবের ছোটবেলার কোচ ওঝা অভিযোগ করেছেন, তরুণ ক্রিকেটারদের রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রেখে তাদের তৈরি করার ধারণা ভুল। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলাতে হলে মাঠে নেমে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা জরুরি।
বৈভবকে প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টিতে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওঝা বলেন, ‘এখনকার ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের ধারণা, ক্রিকেটারদের বেঞ্চে বসিয়ে রেখেই তাদের তৈরি করা যায়। সেই কাজটাই তারা করছে। ক্রিকেটের আরও অনেক কিংবদন্তির সঙ্গে কথা বলুন। পরের প্রজন্মের ক্রিকেটারদের তৈরি করতে হলে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে হবে, খেলার সুযোগ দিতে হবে—সকলেই এই কথা বলবেন। বেঞ্চে বসে কোনও ক্রিকেটার কখনও তৈরি যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।’
‘দৈনিক স্টেটসম্যান ডিজিটাল’- কে ফোনে ওঝা কথাগুলি বলেন ওঝা। তাঁর মতে, বৈভবের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে নিয়মিত খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। ম্যাচ খেললেই একজন তরুণ ক্রিকেটার পরিস্থিতি বুঝতে পারেন, নিজের ভুল শুধরে নিতে পারেন এবং আরও পরিণত হয়ে ওঠেন। শুধু দলের সঙ্গে থেকে কিংবা মাঠে জল বয়ে নিয়ে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
শুধু সুযোগ না পাওয়াই নয়, বারবার দলের বাইরে থাকার ফলে বৈভবের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর কোচের।
ওঝার কথায়, ‘হয়তো ওরা ঠিক করে নিয়েছে যে এই ছেলেটাকে কোনও সুযোগই দেওয়া হবে না। ওকে বাইরে বসিয়ে রেখে এতটাই হতাশ করে দেওয়া হবে যে, সে আত্মবিশ্বাসই হারিয়ে ফেলবে! আর কী বলব? বাইরে বসে থাকলে একজন ক্রিকেটারের মনে হতে পারে, দলে তার কোনও প্রয়োজনই নেই। এতে একজন তরুণ ক্রিকেটার হতাশ হয়ে পড়তে পারে।’
এর পরেই বৈভবকে নিয়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে আরও সরব হন তিনি। বলেন, ‘এই বয়সে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলে ওর পরিণত হওয়া উচিত। ওর খেলায় উন্নতি হওয়া উচিত, আরও ধার বাড়া উচিত। অথচ ও বাইরে বসে থাকছে, জল, তোয়ালে বইছে। আমার মনে হয়, এখন যে টিম ম্যানেজমেন্ট রয়েছে, তারা এক ধরনের একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে। যা খুশি, তা-ই করছে।’
টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও বৈভবের প্রতিভা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই ওঝার। তাঁর বিশ্বাস, সুযোগ পেলে এই কিশোর নিজের ব্যাটিংয়ের ক্ষমতা প্রমাণ করে দেবে।
কোচের কথায়, ‘আমার মতে, বৈভব একটা ঝড়ের মতো। যে-ই ওর সঙ্গে লড়তে আসবে, শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়বে। আজ না হলে কাল। এই ঝড় দীর্ঘ দিন ধরে থাকবে। আমরা ছ’মাস, এক বছর কিংবা দু-একটা আইপিএল মরসুমের কথা বলছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বহু বছর ধরে ওর পারফরম্যান্স ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। কে কী করছে, তাতে কিছু যায় আসে না। ও সব জায়গায় রান করবে, দাপটের সঙ্গে রান করবে। এই ছেলেটার প্রতিভা ও সম্ভাবনা কতটা, সেটাই আমি বোঝাতে চাইছি।’
এ বার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজেও প্রথম তিনটি ম্যাচে তাঁকে খেলানো হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে, এমন প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে? বৈভবকে খেলানোর দাবি তুলে তাঁর কোচের ক্ষোভ সেই বিতর্ককেই আরও উস্কে দিল।




