• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 13 October, 2026

রঞ্জি অভিযানের শুরুতেই দাপট মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, হায়দরাবাদের, ইনিংসে জিতে বোনাস পয়েন্ট

রঞ্জি ট্রফির নতুন মরসুমে শুরুতেই নিজেদের শক্তি বুঝিয়ে দিল মুম্বই। চণ্ডীগড়কে ইনিংস ও ১৫৫ রানে হারিয়ে এলিট গ্রুপ ডি-র অভিযান শুরু করল

রঞ্জি অভিযানের শুরুতেই দাপট মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, হায়দরাবাদের, ইনিংসে জিতে বোনাস পয়েন্ট

রঞ্জি ট্রফির নতুন মরসুমে শুরুতেই নিজেদের শক্তি বুঝিয়ে দিল মুম্বই। চণ্ডীগড়কে ইনিংস ও ১৫৫ রানে হারিয়ে এলিট গ্রুপ ডি-র অভিযান শুরু করল ৪২ বারের রঞ্জি চ্যাম্পিয়নরা। শুধু জয় নয়, তিন দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে বোনাস পয়েন্টও তুলে নিল মুম্বাই। ব্যাট হাতে বড় রান করার পরে বল হাতেও প্রতিপক্ষকে কার্যত উড়িয়ে দিলেন মুম্বাইয়ের বোলাররা।

প্রথম ইনিংসে মুম্বইয়ের ৪২৯ রানের জবাবে চণ্ডীগড়ের ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ৭৮ রানে। দ্বিতীয় দিনের খেলায় প্রতিপক্ষের প্রথম ছ’টি উইকেট পড়ে মাত্র ২৯ রানে। মুম্বাইয়ের পেসার তুষার দেশপাণ্ডে ১৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে চণ্ডীগড়ের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। মোহিত অবস্থি তিনটি উইকেট নেন মাত্র ৯ রান দিয়ে। সিলভেস্টার ডি’সুজার ঝুলিতে আসে দু’টি উইকেট।

৩৫১ রানের বিশাল লিড পাওয়ার পরে চণ্ডীগড়কে ফলো-অন করায় মুম্বই। দ্বিতীয় ইনিংসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি চণ্ডীগড়। ৫২.১ ওভারে ১৯৬ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। শিবম ভামব্রি করেন ৪৪ রান। মুম্বইয়ের হয়ে শামস মুলানি ৬৯ রানে তিনটি এবং তনুষ কোটিয়ান ৩০ রানে তিনটি উইকেট নেন। ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে তুষার দেশপাণ্ডের সংগ্রহ সাত উইকেট।

প্রথম ইনিংসে মুম্বাইয়ের বড় রানের ভিত গড়ে দেন সিদ্ধেশ লাড। অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৮৬ রান। মুশির খান করেন ৬৫। অর্ধশতরান করেন তনুষ কোটিয়ান (৫৮) এবং মোহিত অবস্থী (অপরাজিত ৫৬)। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ৪২৯ রানের বড় পুঁজি তৈরি করে মুম্বাই।

চণ্ডীগড়ের হয়ে প্রথম ইনিংসে রাজ বাওয়া চারটি উইকেট নিলেও মুম্বইয়ের রান আটকাতে পারেননি। রোহিত ধান্ডাও চার উইকেট পান। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই লড়াই কোনও কাজে আসেনি।

 

সিরাজের হায়দরাবাদের দাপট, ইনিংসে হার ত্রিপুরার

 

রঞ্জি ট্রফির নতুন মরসুমে দুরন্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল হায়দরাবাদ। ত্রিপুরাকে ইনিংস ও ৪০ রানে হারিয়ে এলিট গ্রুপ বি-তে সাত পয়েন্ট তুলে নিল মহম্মদ সিরাজের দল। হায়দরাবাদের জয়ের নায়ক বাঁহাতি স্পিনার তনয় ত্যাগরাজন। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ৯ উইকেট। অন্য দিকে, ভারতীয় দলের পেসার সিরাজও দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন।

প্রথম ইনিংসে ত্রিপুরাকে মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট করে দিয়েছিল হায়দরাবাদ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৯৪ রান তোলে তারা। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে যায় সিরাজের দল। হায়দরাবাদের হয়ে তন্ময় আগরওয়াল করেন ৫৪ রান। রুতিক যাদব মেন্ডের ব্যাট থেকে আসে ৬১ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১২০ রানেই শেষ হয়ে যায় ত্রিপুরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রানে ৬ উইকেট তুলে নেন তনয়। তাঁর সঙ্গে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সিরাজ। ৯ ওভার বল করে ১৯ রান দিয়ে দু’টি উইকেট নেন ভারতীয় পেসার। ফলে মাত্র আড়াই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে দেয় হায়দরাবাদ। এই জয়ের সুবাদে বোনাস পয়েন্ট-সহ মোট সাত পয়েন্ট পেল হায়দরাবাদ। পরের ম্যাচে ১৮ অক্টোবর অন্ধ্রের মুখোমুখি হবে তারা। অন্য দিকে, ত্রিপুরার পরের প্রতিপক্ষ অসম।

 

রিঙ্কু-মাধবের সেঞ্চুরিতে ইনিংস জয় উত্তরপ্রদেশের

 

রঞ্জি ট্রফির নতুন মরসুমে দুরন্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল উত্তরপ্রদেশও। রিঙ্কু সিং ও মাধব কৌশিকের শতরানের পর বল হাতে দাপট দেখালেন কার্তিক যাদব ও করণ শর্মা। তাঁদের দাপটে বিহারকে ইনিংস ও ২৬৭ রানে হারিয়ে দিল উত্তরপ্রদেশ। মঙ্গলবার রাজগিরে গ্রুপ এ-র ম্যাচে এক দিন বাকি থাকতেই শেষ হয়ে গেল খেলা।

টসে জিতে প্রথমে প্রতিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠায় বিহার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপদ ডেকে আনে। উত্তরপ্রদেশের হয়ে ওপেন করতে নেমে মাধব কৌশিক করেন ১৫০ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা। অন্য দিকে, পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে রিঙ্কু সিং করেন ১১২ রান। ১৬৮ বলের ইনিংসে আটটি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। মাধবের সঙ্গে তাঁর জুটি দলকে বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। প্রথম ইনিংসে ৫৪০ রান তোলে উত্তরপ্রদেশ। প্রথম ইনিংসে বিহার শেষ হয়ে যায় মাত্র ১৪১ রানে। কার্তিক যাদব ও করণ শর্মা দু’জনেই চারটি করে উইকেট নেন।

৩৯৯ রানের লিড নিয়ে বিহারকে ফলো-অন করায় উত্তরপ্রদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩৬.৪ ওভারে মাত্র ১৩২ রানে শেষ হয়ে যায় বিহারের ইনিংস। এ বার করণ শর্মা তিনটি এবং জিশান আনসারি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে বিহারের ব্যাটিংয়ের শেষ প্রতিরোধটুকুও ভেঙে দেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে কার্তিকের সংগ্রহ ছ’টি উইকেট। করণ নেন মোট সাতটি।