• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 12 October, 2026

আইএসএলের প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা খেল মোহনবাগান এসজি, শেষ মুহূর্তের গোলে হার

সোমবার গুয়াহাটিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ০-১-এ হারল তারা। ম্যাচের একেবারে শেষে জিথিন এমএসের গোলে জেতে নর্থইস্ট।

আইএসএলের প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা খেল মোহনবাগান এসজি, শেষ মুহূর্তের গোলে হার

ISL Match Photo-SNS

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত হার দিয়ে আইএসএল শুরু করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সোমবার গুয়াহাটিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ০-১-এ হারল তারা। ম্যাচের একেবারে শেষে জিথিন এমএসের গোলে জেতে নর্থইস্ট।

এ দিন দুই দলই গোলের প্রচুর সুযোগ পায়। নর্থইস্টের মরক্কান স্ট্রাইকার আলাদিন আজারেই দু-দুবার বল মোহনবাগানের জালে বল জড়ালেও দুবারই তাঁর গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। মোহনবাগানের লি আরউইন, আলবার্তো রদ্রিগেজ ভাল সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। তবে এ দিন নর্থইস্টকে প্রায় নিশ্চিত হার থেকে বাঁচান তাদের গোলকিপার গুরমিত সিং। একাধিক অবধারিত গোল বাঁচান তিনি।

এ দিন প্রথমার্ধেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় দুই দলের মধ্যে। তবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টই গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করে। ম্যাচের শুরুর দিকেই ছাঙতের কর্নার থেকে যে ভলিটি করে পোস্টে মারেন লি আরউইন, সেই সুযোগটিকেই প্রধমার্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগ বলা যায়। যদিও অফসাইডের সিদ্ধান্ত জানান সহকারী রেফারি। গত ম্যাচে মাথায় চোট পাওয়া দেজান দ্রাজিচকে এ দিন শুরু থেকেই খেলতে দেখা যায়।

কোচ দিমপেরিস দলের নিয়মিত উইঙ্গার মনবীর সিংকে ডাগ আউটে রেখে খেলা শুরু করেন। আরউইনকে আক্রমণের দায়িত্ব দেন। অন্যদিকে, নর্থইস্টের সেরা ফরোয়ার্ড আলাদিন আজারেইকে শুরু থেকেই খেলান নর্থইস্ট কোচ পেদ্রো বেনালি। তবে তাঁকে কড়া পাহাড়ায় রাখে মোহনবাগান রক্ষণ। আলবার্তো রদ্রিগেজে তাঁর সঙ্গে কার্যত ছায়ার মতো লেগেছিলেন। তাঁর একটি গোলমুখী শট প্রথমেই ব্লক করেন আলবার্তো রদ্রিগেজ। পরের মিনিটেই সামির জেলকোভিচ মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের গোলে পৌঁছে শট নিলেও তা আটকে দেন গোলকিপার গুরমিত।

তবে ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মাথায় মোহনবাগানের জালে বল জড়িয়ে দেন আজারেই। নিকসনের বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়ে লব করে বিশাল কয়েথের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন আজারেই। কিন্তু তার আগেই অফসাইডের পতাকা উঠে যায়। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটেও আজারেইকে আটকান আলবার্তো। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে একটি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করেছিলেন আলবার্তো এবং সেই শট প্রায় নিখুঁতও ছিল, কিন্তু বারের কয়েক ইঞ্চি ওপর দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জিথিন এমএস-কে নামায় নর্থইস্ট। অন্যদিকে ছাঙতের জায়গায় নামেন মনবীর। এই অর্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় কলকাতার দল। আরউইনের একটি দুরন্ত গোলমুখী শট বাঁচান গুরমিত। এর মধ্যে নেমে পড়েন মিগুয়েল ফিগেরা, লিস্টন কোলাসোও। নামার পরই কোলাসোর পাস থেকে গোলে শট নেন মিগুয়েল। এবারও দলকে বাঁচান গুরমিত। কোলাসোর বাঁক খাওয়ানো গোলে শটও বাঁচান নর্থইস্টের গোলকিপার। এই সময় গুরমিতকে কড়া পরীক্ষার সামনে দাঁড়া করায় সবুজ-মেরুন বাহিনী।

৭১ মিনিটের মোহনবাগানের বক্সে প্রায় ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন জিথিন। তাঁকে এক দুর্দান্ত লো ক্রস বাড়ান আজারেই। কিন্তু পিছন থেকে মেহতাব সিং এসে দারুন ভাবে বল ক্লিয়ার করে দেন। ৭৪ মিনিটে ফের আজারেইয়ের দূরপাল্লার শট জালে জড়ায় ঠিকই, তবে ফের অফসাইডের ফ্ল্যাগ উঠে যায়।

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ফের সুযোগ পায় নর্থইস্ট। এ বার নিনকোভিচ বক্সের সামনে থেকেই গোলে শট নেন, যা বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পরপর দুটি সুযোগ পান সুহেল ভাট। প্রথমবার অফসাইডের বাঁশি বেজে ওঠে। কিন্তু পরের বার গোলের সামনে থেকে বারের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেন তিনি। এরপর মিগেলও গোলের সামনে থেকে গুরমিতের হাতে বল জমা করে দেন।

সংযুক্ত সময়ে আসল কাজটা করেন জিথিন এমএস। প্রথমে ফ্রি কিক থেকে মোয়ানো গোলে শট মারলে তা বিশালের হাতে লেগে পোস্টে লেগে ফিরে আসে, সেই ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দেন জিথিন। এই গোলেই প্রথম ম্যাচ থেকে শূন্য হাতে মাঠ ছাড়তে হয় সবুজ-মেরুন বাহিনীকে।