• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 12 October, 2026

চোটকে হারিয়ে রঞ্জিতে আগুনে রোহিত! পাঁচ উইকেটে কাঁপালেন মধ্যপ্রদেশ, কে এই শর্মাজি?

নাম শুনে মনে হতে পারে, ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মার কথা হচ্ছে। কিন্তু না, এই রোহিত শর্মা মুম্বইয়ের তারকা ক্রিকেটার নন

চোটকে হারিয়ে রঞ্জিতে আগুনে রোহিত! পাঁচ উইকেটে কাঁপালেন মধ্যপ্রদেশ, কে এই শর্মাজি?

PIC-X

নাম শুনে মনে হতে পারে, ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মার কথা হচ্ছে। কিন্তু না, এই রোহিত শর্মা মুম্বইয়ের তারকা ক্রিকেটার নন। তিনি জম্মু-কাশ্মীরের ঘরোয়া ক্রিকেটার। আর রঞ্জি ট্রফির চলতি মরশুমে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে বল হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ৩২ বছরের এই পেসার। প্রথম দিনেই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছেন তিনি।

রবিবার শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে রঞ্জি ট্রফির ২০২৬-২৭ মরশুমের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীর ও মধ্যপ্রদেশ। রোহিতের পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি সুনীল কুমার চারটি উইকেট নেন। দুই বোলারের দাপটে মধ্যপ্রদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৯১ রানে। রোহিত ২১.২ ওভার বল করে আটটি মেডেন-সহ ৩৬ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। তাঁর শিকার হর্ষ গাওলি, হিমাংশু মন্ত্রী, অধিনায়ক শুভম শর্মা এবং অভিষেককারী চঞ্চল রাঠোর ও অথর্ব মহাজন।

তবে প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রেখেও স্বস্তিতে নেই জম্মু-কাশ্মীর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে একশো রান তোলার আগেই সাত উইকেট হারিয়ে বসে তারা। মধ্যপ্রদেশের হয়ে আভেশ খান ২০ রানে তিনটি এবং অক্ষয় শর্মা ১৬ রানে দুটি উইকেট নেন। রবি কিরণ ও আর্যন পাণ্ডেও একটি করে উইকেট তুলে নেন। ফলে রোহিতের দুরন্ত বোলিংয়ের পরেও ম্যাচে জম্মু-কাশ্মীরের লড়াই কঠিন হয়ে উঠেছে।

চোটের বাধা পেরিয়ে প্রত্যাবর্তন

১৯৯৪ সালে জম্মুতে জন্ম রোহিতের। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেলার পর ২০১৫-১৬ মরশুমে জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। একই বছর বিজয় হাজারে ট্রফিতে এক দিনের ক্রিকেটেও অভিষেক করেন। ২০১৬ সালে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান।

তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেকের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও প্রত্যাশামতো এগোয়নি তাঁর কেরিয়ার। মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে পর্যন্ত ১১ বছরে মাত্র ২২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন রোহিত। উইকেট পেয়েছিলেন ৩৯টি। এক দিনের ক্রিকেটে আটটি এবং টি-টোয়েন্টিতে মাত্র পাঁচটি ম্যাচে জম্মু-কাশ্মীরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০২৬ সালের ইরানি ট্রফিতে ফের জম্মু-কাশ্মীরের দলে ফিরে আসেন রোহিত। তার আগে টানা দু’টি মরশুম দলের বাইরে ছিলেন তিনি।

এর পিছনে বড় কারণ ছিল চোট। অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়া এবং গোড়ালির হাড়ে চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। মাঠে ফেরার পর প্রায় দু’বছর আগে একই জায়গায় আবার চোট পান রোহিত। তার পরেও দীর্ঘ পুনর্বাসন পর্ব পেরিয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। তাই মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নেওয়া তাঁর কাছে শুধুই একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, বরং কঠিন লড়াইয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোরও বড় মুহূর্ত।

রোহিতের প্রত্যাবর্তনে জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট সংস্থার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের বাইরে থাকার সময় পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাঁকে দলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সতীর্থদের সঙ্গে থাকা এবং ক্রিকেটের পরিবেশের মধ্যে থাকার সুযোগ তাঁর ফিরে আসার পথে সহায়ক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পরেও রোহিতের পায়ের হাড়ে স্ক্রু লাগানো রয়েছে।

২০১৫ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে সাক্ষাৎ

রোহিতের ক্রিকেটজীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা ২০১৫ সালের। সে বছর বিজয় হাজারে ট্রফিতে আলুরে ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিল জম্মু-কাশ্মীর। সেই সময় ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ম্যাচের পর জম্মু-কাশ্মীরের তৎকালীন অধিনায়ক তথা বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সভাপতি মিথুন মানহাস ধোনিকে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান।

সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের সাজঘরে যান ধোনি। তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চাপের পরিস্থিতি সামলানো, স্নায়ুর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা ও খেলার প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। রোহিত পরে একটি পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, সিনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেটে পৌঁছনোর পর সাফল্যের জন্য পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া ঠিক রেখে মাঠে তার সঠিক প্রয়োগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নিয়ে আপাতত নিজের নাম নতুন করে পরিচিত করালেন জম্মু-কাশ্মীরের এই রোহিত শর্মা। দীর্ঘ চোটের ইতিহাস পেরিয়ে তাঁর এই পারফরম্যান্স কেরিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হলে এখন ব্যাট হাতেও ঘুরে দাঁড়াতে হবে জম্মু-কাশ্মীরকে।