• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 12 October, 2026

একসঙ্গে ব্যাট করতে নামলে গোমরা ইশানকে হাসানোর জন্য কী কী করেন অভিষেক, জানালেন নিজেই

ম্যাচের পরে অভিষেক বলেন, ‘ব্যাট করতে নামলে ইশান খুব সহজে হাসে না। তাই আমি প্রথমে ওকে হাসানোর চেষ্টা করি, একটু চাপমুক্ত করার চেষ্টা করি। কারণ, ব্যাট করতে নামার সময় ও একটা নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থায় থাকতে পছন্দ করে’।

একসঙ্গে ব্যাট করতে নামলে গোমরা ইশানকে হাসানোর জন্য কী কী করেন অভিষেক, জানালেন নিজেই

Photo: X

মাঠের বাইরে হাসি-মজায় মাতেন। কিন্তু ব্যাট করতে নামলেই বদলে যান ইশান কিষাণ! মুখে হাসি উধাও, মনোযোগ পুরোপুরি বাইশ গজে। ইশানকে নিয়ে এ কথাই জানালেন অভিষেক শর্মা। তিনি বলেন, ব্যাট করতে নেমে ইশানকে একটু হাসিয়ে, চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করেন তিনি। আর তাতেই তৈরি হয় দু’জনের দুর্দান্ত বোঝাপড়া।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয় অভিষেক-ইশানের জুটি। মাত্র ৪০ বলে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৮ রান যোগ করেন তাঁরা। অভিষেকের ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৬৯ রান। অন্য দিকে, মাত্র ১৮ বলে ৩৭ রান করেন ইশান। দুই বাঁহাতি ব্যাটারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বড় রান করার ভিত তৈরি করে ফেলে ভারত।

ম্যাচের পরে অভিষেক বলেন, ‘ব্যাট করতে নামলে ইশান খুব সহজে হাসে না। তাই আমি প্রথমে ওকে হাসানোর চেষ্টা করি, একটু চাপমুক্ত করার চেষ্টা করি। কারণ, ব্যাট করতে নামার সময় ও একটা নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থায় থাকতে পছন্দ করে’।

অভিষেক ও ইশানের জুটি অবশ্য শুধু এই ম্যাচেই নয়, আইপিএলেও নজর কেড়েছে। দীর্ঘ দিনের পরিচয় এবং একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের বোঝাপড়াকে আরও মজবুত করেছে। অভিষেকের মতে, একে অপরের খেলার ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকায় মাঠে বেশি কথা বলার প্রয়োজন হয় না।

তাঁর কথায়, ‘আমাদের মধ্যে একটা ভাল বোঝাপড়া রয়েছে। আইপিএলেও আমরা একসঙ্গে অনেক পার্টনারশিপ গড়েছি। একে অপরকে খুব ভাল বুঝি। ইশান যখন একটি উইকেট পড়ার পরে ব্যাট করতে নামে, তখন প্রথম দিকে একটু চাপ থাকে। আমি সব সময় চাই, ও যেন সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসে এবং নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন ব্যাট করি, তখন পিচ বা পরিস্থিতি নিয়ে খুব বেশি কথা বলি না। একে অপরের ব্যাটিং উপভোগ করি, একে অপরকে সাহায্য করি’।

পাওয়ার প্লে-তে ঝড় তোলার প্রস্তুতি

শুধু ইশানকে চাপমুক্ত রাখাই নয়, নিজের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পিছনেও বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। তাঁর মতে, পাওয়ার প্লে-তে যত বেশি রান করা যায়, দলের পক্ষে ততই ভাল। তবে সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য প্রতিপক্ষের বোলারদের নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করাও জরুরি।

ভারতের তরুণ ওপেনার বলেন, ‘প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি এই ভাবে খেলতে চাই, তা হলে পাওয়ার প্লে-র সদ্ব্যবহার করতে হবে। আর তার জন্য প্রস্তুতি জরুরি। কোন দলের বিরুদ্ধে খেলছি, কোন বোলার বল করবেন, তার উপর পরিকল্পনা নির্ভর করে। সময় পেলেই আমি নির্দিষ্ট বোলারকে নিয়ে ভাবি এবং কী ভাবে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করব, তা ঠিক করি’।

নমন ধীরের পাশে অভিষেক

সতীর্থ নমন ধীরের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেছেন অভিষেক। অনূর্ধ্ব-১৪ স্তর থেকেই নমনকে চেনেন তিনি। তাই তাঁর দক্ষতা সম্পর্কে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় ওপেনার।

অভিষেকের কথায়, ‘অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায় থেকে ওকে দেখছি। তাই জানি, ও কত ভাল বল করতে পারে। শুধু ওকে পরিকল্পনাটা বুঝিয়ে দিতে হয়। পর পর দু’টি ছক্কা খাওয়ার পরে কোনও বোলারই হয়তো খুব বেশি ভাবতে পারেন না। আমরা চেয়েছিলাম, ও একটু সময় নিক এবং নিজের সেরা বল— অফ স্পিনটাই করুক’।

নমনের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী অভিষেক। তাঁর বিশ্বাস, যে ভাবে বল করছেন নমন, তাতে আগামী কয়েক বছরে ভারতের হয়ে ভাল পারফরম্যান্স দেখানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের নেপথ্যে যেমন ছিল অভিষেকের বিধ্বংসী ব্যাটিং, তেমনই ছিল ইশানের সঙ্গে তাঁর সহজ বোঝাপড়া। আর সেই জুটির গোপন মন্ত্র? একজনের ব্যাটে ঝড়, অন্য জনের চাপ কমানোর চেষ্টা—আর দু’জনেরই ক্রিকেটকে উপভোগ করার মানসিকতা।