• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 8 October, 2026

‘আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি’, নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি ফের জোরালো ট্রাম্পের

নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি ফের জোরালো করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, গত এক বছরে তিনি আটটি যুদ্ধ

‘আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি’, নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি ফের জোরালো ট্রাম্পের

Image: Reuters via ANI

D বা সংঘাতের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আরও একটি সংঘাতের দ্রুত সমাধান হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময়ই সামনে এসেছে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, এমন কিছু তিনি করেছেন, যা এর আগে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেননি। নিজের বক্তব্যকে কোনও ধরনের ‘বড়াই’ নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

নোবেল নিয়ে ফের সরব ট্রাম্প

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের কাছে নতুন নয়। দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাতে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বারবার এই পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি।

এবারও সেই একই যুক্তি সামনে এনেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারত-পাকিস্তান, ইজরায়েল-ইরান, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, সার্বিয়া-কসোভো, রুয়ান্ডা-ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মিশর-ইথিওপিয়া এবং আর্মেনিয়া-আজারবাইজান-সহ একাধিক সংঘাতের ক্ষেত্রে আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির সবকটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশ সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে আমেরিকার ভূমিকার মাত্রা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য জানিয়েছে। ভারতও আগেই স্পষ্ট করেছে, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর ক্ষেত্রে কোনও মার্কিন মধ্যস্থতা ছিল না।

‘চার-পাঁচবার নোবেল পাওয়া উচিত ছিল’

এর আগেও একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজের প্রাপ্যতার কথা বলেছেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধ্যেই চার বা পাঁচবার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।

সেই সময় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০০৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রসঙ্গও টেনে এনেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওবামাকে পুরস্কার দেওয়া হলেও তাঁর নিজের কূটনৈতিক সাফল্য তুলনায় অনেক বেশি।

ট্রাম্পকে কি সত্যিই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে?

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক দাবি সামনে এসেছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ক্লডিয়া টেনি জানিয়েছেন, চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো তিনি ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ইজরায়েল, পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়ার নেতারাও ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে প্রকাশ্যে দাবি করা হয়েছে।

তবে নোবেল কমিটি নির্দিষ্ট কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত করে না। চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন রয়েছে। তার মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। মনোনয়ন পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নোবেল কমিটি সমর্থন করছে—এমন কোনও অর্থ নেই।

ইরান সংঘাতই কি ট্রাম্পের পথে কাঁটা?

নোবেল নিয়ে ট্রাম্পের দাবি যখন ফের সামনে এসেছে, তখনই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এখনও আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধেরও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ফলে একদিকে ‘আটটি যুদ্ধ থামানোর’ দাবি, অন্যদিকে একাধিক চলমান সংঘাত—দুইয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট বৈপরীত্য। ৯ অক্টোবর ২০২৬ নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কথা। তার ঠিক আগের দিন ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে তাই ফের জোরালো হয়েছে তাঁর নোবেল-দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক জল্পনা।