• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 7 October, 2026

জ্ঞানেশের পদত্যাগেই শেষ নয় লড়াই: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড়সড় জোট বেঁধে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ডাক ককরোচদের

SIR বিরোধী আন্দোলনে এবার বড়সড় জোটে বেঁধে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি তো ছিলই, এবার ককরোচদের ঘোষণা, যতদিন না সব নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।

জ্ঞানেশের পদত্যাগেই শেষ নয় লড়াই: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড়সড় জোট বেঁধে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ডাক ককরোচদের

Press Conference Of Student Unions and CJP at New Delhi (X/@abhijeet_dipke)

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner-CEC) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না, দেশের গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার (electoral overhaul) করতে হবে। বুধবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে এই ভাষাতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ককরোচ জনতা পার্টি-সহ বেশ কয়েকটি ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন। আগামী ১০ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India-ECI) সদর দপ্তর ঘেরাওয়ের ডাক দিয়ে দেশ জুড়ে ছাত্র-যুবদের রাজধানীমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এদিকে মঙ্গলবারের পর বুঝবারও নির্বাচন সদন অভিযানে নেমেছেন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA bloc) জোটের সাংসদরা। সেই রাজনৈতিক প্রতিবাদের আবহেই এবার মাঠে নামছে দেশের একাধিক প্রধান ছাত্র সংগঠন। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI), আইসা (AISA), এআইএসএফ (AISF)-এর পাশাপাশি এই যৌথ মঞ্চে শামিল হয়েছে আম আদমি পার্টির ছাত্র শাখা আসাপ (ASAP) এবং নাগরিক অধিকার মঞ্চ ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party-CJP)।

শুধু পদত্যাগ নয়

 আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে থাকা এক জন আমলার অপসারণ এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট জানান, জ্ঞানেশ কুমার যদি পদত্যাগও করেন, তবুও রাজপথ ছাড়বেন না আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এখন খাদের কিনারায়। প্রশাসনিক স্তরে কারচুপি রোধ করতে হলে ব্যবস্থার আগাপাশতলা সংস্কার প্রয়োজন।

সংগঠনগুলির মতে, বিরোধী সাংসদদের ক্ষোভের জায়গাটি ন্যায়সঙ্গত হলেও ছাত্রসমাজের লড়াই কেবল নির্বাচনী রাজনীতির অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার এক সার্বিক লড়াই।

সংঘাতের মূলে

 নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে দেশ জুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে এই সংঘবদ্ধ আন্দোলনে। যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে মূলত ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি তোলা হয়েছে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে ক্ষানেশ কুমারের ইস্তফা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের (criminal proceedings) পাশাপাশি SIR প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে স্থাগিতাদেশ, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা বজায় রাখার মতো বিরাট দাবি রয়েছে। রয়েছে ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবিও। যৌথ মঞ্চের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইন (Chief Election Commissioner Act, 2023) প্রত্যাহার করে দেশের শীর্ষ আদালত ও নিরপেক্ষ কাঠামোর মাধ্যমে কমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

২০২৩ সালের নিয়োগ আইন বিতর্ক

২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া আইনের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কমিটি থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়েছিল কেন্দ্র। বদলে কমিটিতে রাখা হয় প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মনোনীত এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং লোকসভার দলনেতা বা বিরোধী দলনেতাকে। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে শাসক দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়ে যায়।

আইসা নেত্রী নেহা বোরা ও এসএফআই নেতা আদর্শ শাজির অভিযোগ, এই আইনের জেরেই নির্বাচন কমিশনের স্বায়ত্তশাসন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়েছে। তাঁদের মতে, শাসক দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারী আমলাদের বসিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নষ্ট করা হচ্ছে। ফলে এই লড়াই কোনও একটি রাজনৈতিক দলের লড়াই নয়, বরং ‘গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্রের’ (democracy versus autocracy) লড়াই।

১০ অক্টোবর ‘দিল্লি চলো’

 আগামী ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দিল্লির রাজপথে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই সমাবেশের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় প্রয়োজনীয় লিখিত তথ্য ও অঙ্গীকারপত্র (intimation) জমা দিয়েছে উদ্যোক্তারা। তবে পুলিশের থেকে কোনও আগাম অনুমতির তোয়াক্কা তারা করছে না বলেই সাফ জানিয়েছেন নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধানস্বীকৃত।

রেল ও বিমানের টিকিট কেটে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে ছাত্র ও তরুণ প্রজন্মকে দিল্লিতে পৌঁছনোর ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক অতীতে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে এমন যৌথ ও আগ্রাসী ছাত্র আন্দোলন নজিরবিহীন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সংসদীয় প্রতিবাদের সঙ্গে যখন ছাত্রসমাজের এই ধারাবাহিক আন্দোলন যুক্ত হতে চলেছে, তখন কেন্দ্রের শাসক দলের উপর চাপ যে বহুগুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।