• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 4 October, 2026

আবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এসআরএফটিআই, ইট-জলের বোতল-বাঁশ নিয়ে হামলা

তাছাড়া ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ সদস্যরা গেটের সামনে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। টেনেহিঁচড়ে কয়েকজনকে সরিয়ে

আবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এসআরএফটিআই, ইট-জলের বোতল-বাঁশ নিয়ে হামলা

Violent SRFTI Photo-SNS

বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল ঘিরে আবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এসআরএফটিআই। এই কেন্দ্রীয় সংস্থার সামনে রবিবার প্রবল উত্তেজনা দেখা দিল। গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে মিছিলকারীরা বলে অভিযোগ। তাতে বাধা দেয় পুলিশ। ভিতরে হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে থাছেন পড়ুয়া এবং অধ্যাপকরা। বাইরে থেকে ভিতরে ইট, জলের বোতল ছোঁড়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ সদস্যরা বলে অভিযোগ। গেট বন্ধ ছিল বলে বাইরে থেকেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। ক্যাম্পাসের ভিতরে জমায়েত করা পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ উঠলেও পড়ুয়াদের বিরুদ্ধেও ইট-পাথর ছোঁড়ার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)। গত রবিবার এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। সেটারই প্রতিবাদ করে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি। ওই ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা দায়ের হয়। কোনও পরিস্থিতিতে ভারতমাতা কিংবা বিবেকানন্দের অসম্মানকারীদের ছাড়া হবে না বলেই জানিয়েছিলেন খোদ উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। গত রবিবারের ঘটনার প্রতিবাদে এই রবিবার প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’।

তাই প্রস্তুত ছিল পুলিশও। এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের খানিকটা আগেই ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিশ। তারপরও ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মিছিল। ততক্ষণে ক্যাম্পাসে ঢোকার সব গেট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। মিছিল করে এসে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ সদস্যরা গেট ধরে নাড়াতে থাকেন। পুলিশের কাছে গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। গেটের ওপারে খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে জমায়েত করেছিলেন পড়ুয়ারাও। তার মধ্যেই জলের বোতল এবং পাথরবৃষ্টি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইটের ঘায়ে জখন হন অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করে। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষোভকারীদেরও বেশ কয়েকজন জখম হয়। বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের ছোঁড়া জলের বোতলের ঘায়ে জখম হন বিক্ষোভকারীরা।

তাছাড়া ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ সদস্যরা গেটের সামনে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। টেনেহিঁচড়ে কয়েকজনকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। সেটা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ কয়েকজন সদস্য। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই গোটা বিষয়ে বঙ্গীয় জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা বলেন, ‘ভারত-বিরোধীরা ভারতমাতা, বিবেকানন্দর ছবিতে লাথি মেরেছে। রাষ্ট্রবাদীদের শক্তি বুঝিয়ে দিলাম।’