জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন অব্যাহত। রবিবার যন্তর মন্তরের দিকে দু’টি মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। একটি নাগরিক মিছিল, অন্যটির ডাক দিয়েছে যুব কংগ্রেস। নাগরিক মিছিল শুরু হওয়ার কথা বিকেল ৪টেয়, যুব কংগ্রেসের মিছিল বিকেল ৫টায়। তবে কোনও কর্মসূচিরই পুলিশের অনুমতি নেই বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
জোড়া মিছিল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীতে। যন্তর মন্তরমুখী একাধিক রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ-সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় কড়া নজরদারি চলছে। প্রায় ৫ হাজার পুলিশকর্মী, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে সিসিটিভি এবং ড্রোনও।
নাগরিক মিছিলের আয়োজকদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে।
এরই মধ্যে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে তিন মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারিণীদের দাবি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনের খবর করতে গিয়ে তাঁরা দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের হাতে হেনস্থার শিকার হন। অভিযোগগুলির ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ তদন্তভার অপরাধ দফতরের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশের দাবি, নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্তের জন্যই এই সিদ্ধান্ত। প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। অভিযোগকারিণীদের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। সাংবাদিকদের একাংশও থানার বাইরে অবস্থানে বসেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণের ঘটনায় এখনও যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি।
ঘটনায় পুলিশের এক সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। এক মহিলা সাংবাদিকের দাবি, বিক্ষোভকারীদের আটক করার সময় ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মী না থাকার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সময় ওই পুলিশ আধিকারিক তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় সরব হয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনও। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে ভয় বা চাপের পরিবেশ তৈরি করা উচিত নয় বলে জানিয়েছে প্রেস কাউন্সিল। সাংবাদিকদের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা অভিযোগ তুলেছেন, যে পুলিশের দায়িত্ব মহিলাদের নিরাপত্তা দেওয়া, সেই পুলিশের বিরুদ্ধেই মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ উঠছে। কলেজছাত্রী থেকে সাংবাদিক— মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা।
অন্যদিকে, শনিবারের ঘটনার পরও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন থামছে না। রবিবারের জোড়া মিছিল ঘিরে দিল্লিতে ফের উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করেছে পুলিশ।




