• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 4 October, 2026

টুলু মণ্ডল দুর্নীতি কাণ্ডে নয়া মোড়, সিটের হাতে গ্রেপ্তার প্রাক্তন বিএলআরও

তাছাড়া চলতি বছরের জুলাই মাসে বীরভূম জেলার মহম্মদবাজারের দেউচা পাঁচামি এলাকায় টুলু মণ্ডলের ডেরায় অভিযান চালিয়ে বিপুল

টুলু মণ্ডল দুর্নীতি কাণ্ডে নয়া মোড়, সিটের হাতে গ্রেপ্তার প্রাক্তন বিএলআরও

Tulu Mondal Photo-SNS

পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের এখনও বেপাত্তা। তবে মহম্মদবাজারের আরও এক সরকারি অফিসার এবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। গ্রেপ্তার মহম্মদবাজারের প্রাক্তন বিএলআরও সব্যসাচী মণ্ডল। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (সিট) হাতে গ্রেপ্তার হন এই বিএলআরও। নকল ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিভ (ডিসিআর) তৈরি করার অভিযোগে সব্যসাচী মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সিউড়ি আদালতে তোলা হয় তাঁকে। তার আগে ওই দপ্তরের ক্যাশিয়ার বিশ্বজিৎ সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সরকারি রাজস্ব তছরুপ এবং ভুয়ো রসিদ বা ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিভ চক্রে সরাসরি মদত দেওয়ার অভিযোগে সব্যসাচীকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা।

টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে চলা আর্থিক তছরুপ এবং দুর্নীতি মামলায় এটাই নয়া মোড়। ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মহম্মদবাজারের বিএলআরও ছিলেন সব্যসাচী মণ্ডল। এবার জাল ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিভ মামলায় গ্রেপ্তার করা হল তাঁকে। এই সব্যসাচী মণ্ডল পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। যতরকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে এই বিএলআরও। তাঁকে কাজে লাগিয়েই বেআইনি জমি নিজের নামে করেছে টুলু মণ্ডল বলে অভিযোগ। সব্যসাচী মণ্ডলের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়। সেখান থেকেই মাঝরাতে সিট তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সূত্রের খবর।

বীরভূমের পাথর খাদান থেকে যেসব পাথর বোঝাই গাড়ি বাইরে যেত, সেখান থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট রাজস্ব বা রয়্যালটি আদায় হওয়ার কথা। কিন্তু টুলু মণ্ডলের দাপটে এই গোটা প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি বিশাল দুর্নীতির সিন্ডিকেট বলে অভিযোগ। পাথর বোঝাই গাড়িগুলির ক্ষেত্রে আসল রসিদের বদলে দেদার জাল ডিসিয়ার বা ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিভ তৈরি করা হতো। এই কারসাজির মাধ্যমেই সরকারি কোষাগারের কোটি কোটি টাকা ফাঁকি দেওয়া হয়েছিল। আর এই গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব থাকে বিএলআরও দপ্তরের। এই দুর্নীতি দপ্তরের ভিতরের কারও মদত ছাড়া সম্ভব নয়। যেটা করেছিল সব্যসাচী মণ্ডল। তাও টুলু মণ্ডলের থেকে উপঢৌকন পেয়ে বলে অভিযোগ।

তাছাড়া চলতি বছরের জুলাই মাসে বীরভূম জেলার মহম্মদবাজারের দেউচা পাঁচামি এলাকায় টুলু মণ্ডলের ডেরায় অভিযান চালিয়ে বিপুল টাকা এবং সোনা উদ্ধার হয়। সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে। টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কওসর আলিও গ্রেপ্তার হয়। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মী প্রবীরকুমার দাসকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তার পরেই একাধিক নাম উঠে আসতে থাকে। গ্রেপ্তার হন বিশ্বজিৎ সাহা। এবার গ্রেপ্তার হলেন সব্যসাচী মণ্ডল।