• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 3 October, 2026

লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক, সব বিধানসভা নির্বাচনের ফল বাতিল বলে ঘোষিত হোক: বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেসের

শাসক শিবিরের পাল্টা বক্তব্য একটাই। কংগ্রেস হারলেই ইভিএম আর কমিশনকে দোষ দেয়, জিতলে সব ঠিকঠাক। বিজেপির দাবি, এতে সংবিধানিক সংস্থার অসম্মান হচ্ছে। উল্লেখ্য, ব্যালটে ভোট চেয়ে দায়ের এক জনস্বার্থ মামলা শীর্ষ আদালত আগেই খারিজ করেছিল।

লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক, সব বিধানসভা নির্বাচনের ফল বাতিল বলে ঘোষিত হোক: বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেসের

Gyanesh Kumar a puppet, must resign: Congress (Image: ANI)

দেশের সব নির্বাচনই অবৈধ। শনিবার এমনই দাবি করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে (Mallikarjun Kharge)। নিজের রাজ্য কর্নাটকের (Karnataka) কালবুর্গিতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, লোকসভা (Lok Sabha) এবং সব রাজ্যের বিধানসভা (Assembly) ভেঙে দেওয়া হোক। নতুন করে ভোট হোক ব্যালট পেপারে (Ballot Paper)।

খড়্গের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং সাম্প্রিতক নির্বাচিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই তাঁর চোখে অবৈধ। তাঁর অভিযোগ, গোটা দেশ চলছে অবৈধ নির্বাচনের ভরসায়।

কেন এত কড়া সুর?

কংগ্রেসের নিশানায় রয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (Electronic Voting Machine বা EVM)। খড়্গের দাবি, মেশিনের অপব্যবহার হচ্ছে। আর এ কথা ওদের নিজেদের লোকজনই বলছেন।

ভোটার তালিকা নিয়েও সরব তিনি। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) চলাকালীন বিজেপি ও আরএসএসের (RSS) লোকজন ওয়ার্ড, পঞ্চায়েত আর গ্রামে ঘুরে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম ভরছেন, এমনই অভিযোগ কংগ্রেস সভাপতির।

কমিশনের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন

খড়্গের নিশানায় ২০২৩ সালের নতুন আইনও। তাঁর অভিযোগ, ওই আইনের ১৬ নম্বর ধারায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) ও অন্য কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ভুল করলেও কোথাও তদন্ত হবে না, কার্যত আমৃত্যু রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি নিয়েও আপত্তি তাঁর। নতুন আইনে সেখান থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে (Chief Justice of India) সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক মন্ত্রীকে রাখা হয়েছে। খড়্গের প্রশ্ন, কোনও সৎ প্রধান বিচারপতি সরকারের সঙ্গে একমত না হলে কমিশন গড়াই কঠিন হত। তাই কি এই বদল?

আইনি লড়াইয়ে যাবে কংগ্রেস?

আদালতে যাওয়ার প্রশ্নে খড়্গের পাল্টা জিজ্ঞাসা, আইনিভাবে আর নতুন কী করা যায়? তাঁর কথায়, মতামত বিনিময়ের জন্যই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। সবাইকে আন্দোলনে নামার আহ্বানও জানানো হয়েছে। মানুষকে জাগানোই তাঁদের কাজ। এর পরেও কেউ মোদী-মোদী করলে বুঝতে হবে, তাঁরা একনায়কতন্ত্রই চান।

ধাপে ধাপে চড়ছে সুর

শনিবারের এই বিস্ফোরণ হঠাৎ হয়নি। দিন চারেক আগে দিল্লিতে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির (Congress Working Committee বা CWC) বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণ দাবি করেছিলেন খড়্গে। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগও চেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রীর চাপেই কমিশনার কাজ করছেন।

খড়্গের দাবি, দু’জন নির্বাচন কমিশনার নিজেরাই মুখ্য কমিশনারের পদক্ষেপকে স্বেচ্ছাচারী ও অনুচিত বলেছেন। সেই বৈঠকে পাঁচ দফা দাবিও তুলেছিল কংগ্রেস। ভোটার তালিকার প্রতিটি বড় বদলের তথ্য প্রকাশ, নাম বাদ পড়া ভোটারদের আপিলের সুযোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে সহজ ফরম্যাটে সময়মতো তালিকা দেওয়ার কথা ছিল সেখানে। এসআইআরকে তিনি তুলনা করেছিলেন নোটবন্দির সঙ্গে।

ব্যালটে ভোটের দাবিও নতুন নয়। আহমেদাবাদে কংগ্রেসের অধিবেশনে মহারাষ্ট্রের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে একই দাবি করেছিলেন খড়্গে।

বিজেপির যুক্তি কী?

শাসক শিবিরের পাল্টা বক্তব্য একটাই। কংগ্রেস হারলেই ইভিএম আর কমিশনকে দোষ দেয়, জিতলে সব ঠিকঠাক। বিজেপির দাবি, এতে সংবিধানিক সংস্থার অসম্মান হচ্ছে। উল্লেখ্য, ব্যালটে ভোট চেয়ে দায়ের এক জনস্বার্থ মামলা শীর্ষ আদালত আগেই খারিজ করেছিল।

লোকসভা ভেঙে দেওয়া কি সহজ?

সংবিধান (Constitution) অনুযায়ী লোকসভার মেয়াদ পাঁচ বছর। তা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির (President), তবে মন্ত্রিসভার পরামর্শে। বিধানসভা ভাঙেন রাজ্যপাল (Governor), সেখানেও রাজ্য মন্ত্রিসভার সুপারিশ লাগে। অর্থাৎ সরকার না চাইলে বিরোধীদের দাবিতে সংসদ বা বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কোনও নির্বাচনকে অবৈধ প্রমাণ করার আইনি পথও আলাদা। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে (Representation of the People Act, 1951) প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য হাই কোর্টে নির্বাচনী মামলা (Election Petition) করতে হয়। গোটা দেশের ভোট এক ধাক্কায় বাতিলের ব্যবস্থা সংবিধানে নেই।

তা হলে দাবির আসল বার্তা কী?

দাবি যে সহজে মানা হবে না, তা কংগ্রেসও জানে। তাদের লক্ষ্য সম্ভবত অন্য। এসআইআরকে ভোটাধিকার হরণের লড়াই হিসেবে তুলে ধরা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশেয়র উদ্রেক এবং বৃহত্তর আন্দোলনের জমি তৈরি করা। উত্তরপ্রদেশ-সহ কয়েকটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে কর্মীদের চাঙ্গা রাখার বার্তাও এর মধ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অবশ্য এই দাবিতে ঝুঁকিও আছে। সব নির্বাচনকে অবৈধ বললে কংগ্রেসের নিজের জেতা রাজ্যের ফলও প্রশ্নের মুখে পড়ে। এবং বিজেপি সেই সুযোগই নিতে চাইবে।