গাইঘাটায় নাবালিকার রহস্যমৃত্যু নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করার পর থেকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তার জেরেই ওই নাবালিকা আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি। এই অভিযোগ কতটা সত্য তার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। গাইঘাটায় ওই নাবালিকার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নাবালিকা আত্মহত্যা করেছে। আর এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে আছে প্রেমিকের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। তাকে ধর্ষণ করে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল। ওই ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করা হতো। এই কাজে যুবকের মা জড়িত ছিল। এমনই কথা উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নাবালিকা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে। নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে সুরজিৎ হালদার নামের স্থানীয় এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক প্রায় একবছর পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ওই যুবক নাবালিকা ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে প্রায়ই ধর্ষণ করত। তারপর নগ্ন ভিডিও তুলে রাখত। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। অবশেষে সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে। এমনই অভিযোগ করেছে মৃত নাবালিকার পরিবার।
মৃত নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে, তিন মাস আগে ওই যুবক নাবালিকাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর জোর করে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে দেয়। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তখন তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার ছবি এবং ভিডিও তুলে রেখে পরে ব্ল্যাকমেল করা হয়। আর বারবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হতো। দিনের পর দিন এমন অত্যাচার চলছিল। এমনকী এই অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের মা সহযোগিতা করত। এই অত্যাচার সে সহ্য করতে পারেনি।
এই চাপ দিনের পর দিন সহ্য করতে না পেরে এবং লাগাতার ব্ল্যাকমেল করে ধর্ষণের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই নাবালিকা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দাবি তোলা হয়েছে। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিতে হবে যা সারাজীবন মনে রাখে বলেও সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।




