• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 3 October, 2026

‘সত্যাগ্রহ মানুষের কণ্ঠগুলিকেই একত্রিত করতে চায়’, অধিকারের লড়াইয়ের ডাক রাহুলের

অন্যদিকে রাহুল গান্ধী এদিন সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বাপু এই শিক্ষাই দিয়েছিলেন। সত্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে তার চেয়েও বড় অস্ত্র হল

‘সত্যাগ্রহ মানুষের কণ্ঠগুলিকেই একত্রিত করতে চায়’, অধিকারের লড়াইয়ের ডাক রাহুলের

LOP Rahul Gandhi Photo-SNS

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবার ‘সত্যাগ্রহ’ করার ডাক দিলেন। নতুন ওয়েবসাইটে তুলে ধরা যাবে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের কথা। শনিবার রাহুল গান্ধী তাঁর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই ওয়েবসাইটের কথা জানালেন। দেশের নানা প্রান্তে একাধিক দাবি এবং ইস্যুতে চলা আন্দোলনকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। ‘সত্যাগ্রহ’ নামে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করার কথা জানিয়ে ওই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের আন্দোলন, দাবি এবং সমস্যার কথা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ বলেও দাবি করলেন। ওই তথ্য একটি ডিজিটাল মানচিত্রে তুলে ধরা হবে। একই ইস্যুতে আন্দোলনরত অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতেই এমন উদ্যোগ।

এদিকে রাহুল গান্ধীর কথা অনুযায়ী, দেশের নানা প্রান্তে অধিকার এবং নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ আন্দোলন করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই আন্দোলনগুলি একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। নতুন ‘সত্যাগ্রহ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেই পৃথক হয়ে যাওয়া আন্দোলনগুলিকে একই জায়গায় তুলে আনাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এই বিষয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দেশজুড়ে মানুষ নিজেদের অধিকারের জন্য লড়ছেন এবং প্রায়ই একাই লড়ছেন। ‘সত্যাগ্রহ’ এই কণ্ঠগুলিকেই একত্রিত করতে চায়। নতুন প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যক্তি নিজের নাম, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নাম এবং যে সমস্যাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন চলছে সেটার বিবরণ জমা দিতে পারবেন। এমনকী তাঁরা আন্দোলনের জন্য কোনও ধরনের সহায়তা প্রয়োজন কিনা, সেটিও জানাতে পারবেন।’

অন্যদিকে রাহুল গান্ধী এদিন সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বাপু এই শিক্ষাই দিয়েছিলেন। সত্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে তার চেয়েও বড় অস্ত্র হল ঐক্যের সঙ্গে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা।’ লোকসভার বিরোধী দলনেতা ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজেদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরতে বলেছেন সাধারণ মানুষকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যাঁদের লড়াই, তাঁদের গল্পই দেখানো হবে সত্যাগ্রহ ওয়েবসাইটে। রাহুল গান্ধী আশ্বাস দেন, ‘আমি যা করতে পারি করব সংসদে, রাজপথে, চিঠি লিখে, যেখানেই আমার প্রয়োজন হবে, আপনার পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করব। বিরোধী দলনেতা হিসেবে এটাই আমার দায়িত্ব। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দু’মিনিট সময় লাগবে। জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আন্দোলনের বিবরণ মানচিত্রে দেখা যাবে এবং একই ধরনের দাবিতে অন্য কোথায় আন্দোলন হচ্ছে সেটাও জানা যাবে। ছাত্র, মহিলা, কৃষক, আদিবাসী, দলিত এবং জেন-জি-সহ নানা গোষ্ঠীর একাধিক সমস্যা এবং আন্দোলন এই প্ল্যাটফর্মে উঠে আসতে পারে। প্রত্যেক আন্দোলনের নিজস্ব গল্প আছে এবং সেই পৃথক কণ্ঠগুলিকে একটি মানচিত্রে একত্রিত করার লক্ষ্যেই ‘সত্যাগ্রহ’ উদ্যোগ।’

তাছাড়া রাহুলের ভিডিও’য় উঠে এসেছে ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে নারী নিরাপত্তা এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ। যাঁরা নিজেদের অধিকারের জন্য প্রতিবাদ করছেন, বা আওয়াজ তুলছেন, তাঁদের এই বিশেষ বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সবাইকে নিজেদের লড়াই ও কর্মসূচির কথাও ওয়েবসাইটে জানাতে আবেদন করলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘কোনওরকম সাহায্যের প্রয়োজন হলে আমি সাহায্য করব। সত্যের পক্ষে মানুষ একসঙ্গে দাঁড়ালে সেই কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।’