• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

সোনারপুরে যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, গণপিটুনির নেপথ্যে কারণ কী?

স্থানীয় বাসিন্দাদের গণপিটুনির জেরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গোপাল। পরে তাকে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে

সোনারপুরে যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, গণপিটুনির নেপথ্যে কারণ কী?

Villagers Lynching Murder Photo-SNS

এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। পুরনো শত্রুতার জেরে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাবাদ ফুলেরহাট সংলগ্ন আম্বেদকর নগরের ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। গণপিটুনিতে খুনের খবর পেয়েই বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্ত করার জন্য। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে যোগ রয়েছে কয়েকবছর আগের একটি খুনের ঘটনার। পুলিশ তদন্তে নেমেছে।

নিহত যুবকের নাম গোপাল হালদার। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপাল হালদার-সহ তিনজন আম্বেদকর নগরের একটি বাড়িতে যান। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। তখন বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন সেখানে। সেটা দেখে পালিয়ে যায় গোপালের দুই সহযোগী। কিন্তু গোপাল পালাতে পারেননি। সে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যায়। আর তখনই স্থানীয় বাসিন্দারাই গোপালকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের গণপিটুনির জেরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গোপাল। পরে তাকে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে কয়েক বছর আগের একটি খুনের ঘটনাও সামনে এসেছে। যে বাড়িতে বৃহস্পতিবার গোপালরা হামলা চালাতে গিয়েছিল বলে অভিযোগ, সেই বাড়ির মালিক কেবো হাজরার দাবি, কয়েক বছর আগে তাঁর ছেলে লাল্টু হাজরাকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় গোপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং সোনারপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল।

তাছাড়া ওই খুনের ঘটনায় গোপাল হালদারের যোগ ছিল। তাকে সোনারপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছিল। যদিও পরে সে জামিনে ছাড়া পায়। আর প্রতিশোধ নিতেই হামলা চালাতে এসেছিল। তবে নেপথ্যে লুকিয়ে বড় কোনও শত্রুতা বলেই অনুমান পুলিশের। ঘটনার রহস্যভেদে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, গোপালের উপর কারা হামলা চালাল, মারধরে কারা জড়িত সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কাউকে সন্দেহের উর্দ্ধে রাখা হচ্ছে না।