• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 1 October, 2026

প্রাথমিকে নিয়োগ শেষ করেই ফের টেট, বছর বছর পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করা হবে। তার পরেই নতুন করে নিয়োগের পথে হাঁটবে সরকার।

প্রাথমিকে নিয়োগ শেষ করেই ফের টেট, বছর বছর পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

Photo: File Photo

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করা হবে। তার পরেই নতুন করে নিয়োগের পথে হাঁটবে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। শুধু তাই নয়, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, সরস্বতীপুজোর মতো প্রতি বছর নিয়ম করে টেট নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

২০২২ সালে শেষ বার প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আন্দোলনের চাপে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ১৩,৪২১টি শূন্যপদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল তৎকালীন সরকার। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে জেলাভিত্তিক ইন্টারভিউ শুরু হয়। প্রথম চার দফার ইন্টারভিউ সম্পন্ন হওয়ার পর নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে পরবর্তী দফার ইন্টারভিউয়ের সূচি ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে নদিয়ায় পঞ্চম পর্যায়ের ইন্টারভিউ গত ১৯ মার্চ শেষ হয়। পুরুলিয়ায় ষষ্ঠ পর্যায়ের ইন্টারভিউ শুরু হয়েছিল ২৩ মার্চ। কিন্তু তার মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যায়। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। পরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানায়, ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিষয়ে ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশন স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে জানতে চেয়েছিল। ৩০ মার্চ সেই চিঠি পর্ষদের হাতে পৌঁছয়। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও কেন ইন্টারভিউ চলছিল, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত ১ এপ্রিল ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্থগিত করে পর্ষদ। এরপর বিধানসভা নির্বাচন, সরকার পরিবর্তন—সবই হয়েছে। কিন্তু আটকে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। ফলে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রাথমিকের নিয়োগপ্রক্রিয়া যেটা চলছে, তা দ্রুত সমাপ্ত করে পরবর্তী নিয়োগে যাব।’’ এরপরই তিনি জানান, শূন্যপদ তৈরি হলে তার ভিত্তিতে ফের টেট নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও সরস্বতীপুজোর মতো বছর বছর টেট হবে।’’

যদিও সরকারের ঘোষণায় পুরোপুরি আশ্বস্ত নন শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের বক্তব্য, আগের সরকারও প্রতি বছর টেট নেওয়ার কথা বলেছিল। পরীক্ষা হলেও নিয়োগ হয়নি। এবার পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি চাকরিও নিশ্চিত হবে কি না, তা দেখার বিষয়।

অন্যদিকে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের (বিদ্যালয়) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিকের মতে, শিক্ষার উন্নতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির জন্যও দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন। তবে ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের মধ্যে এখনও ক্ষোভ রয়েছে। ঐক্যমঞ্চের সভাপতি বিদেশ গাজির বক্তব্য, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কবে নিয়োগ শেষ হবে সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে হবে। চার বছর ধরে অপেক্ষা করতে করতে তাঁরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।