কলকাতা হাইকোর্ট বড় স্বস্তি দিল কৃষ্ণনগরের মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। এমনকী তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২০২৭ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। এখানেই শেষ নয়, সাংসদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। সুতরাং সাংসদ মহুয়া মৈত্র বড় স্বস্তি পেলেন। দুর্গাপুজোর আগে এটা তাঁকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের লোকসভা কেন্দ্রে যাওয়া-আসা করার সময় সাংসদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী ৩০ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত তাঁর পুলিশের নিরাপত্তার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কদিন আগে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়। আবার কালো পতাকাও দেখানোর ঘটনা ঘটেছিল। এই গোটা ঘটনা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন সাংসদ। এই বিষয়টি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলা স্থানান্তরিত করে দেন। ডিম ছোঁড়ার মামলাগুলি এখন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চে বিচারাধীন। তাই এদিন মহুয়ার উপর ডিম ছোঁড়া মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পর থেকে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ওই ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জুন। ওই দিন নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি লাইভ সম্প্রচার চলাকালীন সাংসদ ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। পরদিন সেটা নিয়ে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির করিমপুর ৪ মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক হীরক ভট্টাচার্য। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তাছাড়া ওই এফআইআরের পরে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাতে সাংসদকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। গত জুলাই মাসে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মহুয়ার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। এবার সেই রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করল কলকাতা হাইকোর্ট। আর এদিন আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে নিরাপত্তা আবেদনের শুনানি এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহুয়া মৈত্র নিজের লোকসভা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকলে বা যাতায়াত করলে পুলিশের নিরাপত্তা তাঁর সঙ্গেই থাকবে। সুতরাং নিজের নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে আইনি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুরক্ষা পেলেন সাংসদ।




