মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতর সহ-পাইলটের আচমকা হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন ভারতীয়ি পাইলট স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar)। কিন্তু সেই অবস্থাতেও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতছাড়া করেননি তিনি। ১৮০ জন যাত্রীকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বিমান অবতরণ করান। তাঁর (Smit Machchhar) এই সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার দুইবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানে ঘটনাটি ঘটে। বিমানে থাকা যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন ইজরায়েলের নাগরিক। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত অবস্থায় ককপিটের মধ্যেই ছুরি দিয়ে স্মিতের উপর হামলা চালান তাঁর সহকারী পাইলট। হামলার পর বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ককপিটে তখন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন স্মিত।
গোলমালের খবর পেয়ে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ছুটে আসেন। যাত্রীদের মধ্যে থাকা কয়েক জন পাইলটও ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। এরপর গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত বিমানটি চালান। সৌদি আরবেনর উত্তর-পশ্চিমে তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়। অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাঝআকাশে তেল আভিভগামী বিমানে বিপদ সংকেত, ইজরায়েলে আতঙ্কের ছায়া
ইজরায়েল এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে দাবি করেছে। ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, গুরুতর আহত হওয়ার পরেও স্মিত প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে ধরে ফেলেন। নেতানিয়াহুর মতে, স্মিতের সাহসিকতার কারণেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রি মোদীও ‘স্মিত’কে নায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ভয়াবহ বিপদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়েও স্মিত অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। তাঁর সাহসিকতার কারণেই বহু মানুষেরি জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে জানান মোদী। একই সঙ্গে স্মিতের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।
Captain Smit Machchhar is a HERO.
In the face of the gravest danger and despite being seriously injured, he showed immense courage and an unwavering resolve to protect the lives of others.
His valour helped save hundreds of lives and avert a great tragedy.
India is proud of…
— Narendra Modi (@narendramodi) October 1, 2026
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্মিতের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, এত গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যেও পাইলট নিজের বিচারবুদ্ধি হারাননি। তাঁকে ‘নায়ক’ বলে ট্রাম্পও উল্লেখ করেন। তবে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।
তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত। সৌদিতে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
গুজরাতি বংশোদ্ভূত স্মিতের বিমান চালানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। পরে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বোয়িং ৭৩৭ বিমানের অভিজ্ঞ পাইলট হিসেবে পরিচিত স্মিত অন্যপাইলটদের মেন্টিরিংয়েরও কাজ করেন। ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রি রয়েছে তাঁর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ককপিটের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে যাত্রীরা বিমানটি যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্মিত ও অন্যদের প্রচেষ্টায় বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে।
দেখুন: সিউড়ির তৃণমূল অফিসে ঢুকে ভাঙচুর, অনুব্রতকে ঘিরে হুমকি, গ্রেফতার ৩




