• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে গালিফ স্ট্রিটে পুলিশি অভিযান, পসরা গুটিয়ে বিপাকে ৬০০ ব্যবসায়ী

প্রশাসনের দাবি, হাটের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কাছেই প্রাণী বা গাছ কেনাবেচার প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স নেই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার বৈধ লাইসেন্স থাকলেই ব্যবসা করা যাবে এমনটাই জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এর পাশাপাশি বিক্রি হওয়া পশুপাখি বা অন্যান্য জীবজন্তু আইনত বৈধ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ রয়েছে।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে গালিফ স্ট্রিটে পুলিশি অভিযান, পসরা গুটিয়ে বিপাকে ৬০০ ব্যবসায়ী

Photo: হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে গালিফ স্ট্রিটে পুলিশি অভিযান (AI)

হাতিবাগান থেকে পাত্তারি গুটিয়ে উওর কলকাতার গালিফ স্ট্রিটের রবিবারের হাটে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর শুরু হয়েছে কড়া পুলিশি নজরদারি। আর তার জেরেই বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৬০০ ব্যবসায়ী। অভিযোগ, গত দু’সপ্তাহ ধরে রবিবারের হাটে ব্যবসায়ীদের বসতে দেওয়া হয়নি। এমনকী বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন গালিফ স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা। আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন তাঁরা। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ অক্টোবর।

গালিফ স্ট্রিটের রবিবারের হাটে দীর্ঘদিন ধরেই গাছ, মাছ, পাখি, কুকুর-সহ বিভিন্ন প্রাণী এবং সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর কেনাবেচা হয়ে থাকে। অভিযোগ ওঠে, এই হাটকে কেন্দ্র করে বেআইনি ভাবে সংরক্ষিত ও বিপন্নপ্রায় পাখি এবং বন্যপ্রাণীর কেনাবেচা ও চোরাচালান চলছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

মামলায় আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বৈধ লাইসেন্সের আড়ালে সংরক্ষিত বা বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণী বিক্রি করা যাবে না। কলকাতা পুলিশ, শুল্ক দপ্তর এবং রাজ্যের প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষককে কার্যকর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেআইনি ব্যবসা ও চোরাচালান চিহ্নিত করতে এলাকায় ছদ্মবেশে বা সাদা পোশাকে আধিকারিকদের নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এরপরই পর পর দুই রবিবার গালিফ স্ট্রিটে শুরু হয় পুলিশি অভিযান। ব্যবসায়ীদের পক্ষের আইনজীবী ব্রজেশ ঝাঁ অভিযোগ করেন, একাধিক ব্যবসায়ীর পসরা সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, হাটের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কাছেই প্রাণী বা গাছ কেনাবেচার প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স নেই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার বৈধ লাইসেন্স থাকলেই ব্যবসা করা যাবে এমনটাই জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এর পাশাপাশি বিক্রি হওয়া পশুপাখি বা অন্যান্য জীবজন্তু আইনত বৈধ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ব্যবসা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বেআইনি ব্যবসা বন্ধ করার নামে বৈধ ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়ছেন। গত দুই রবিবার হাটে বসতে না পারায় তাঁদের রুজি-রোজগার কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ।

আরও পড়ুন: আইএসএফের প্রতীক-মামলায় রায় স্থগিত, হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে কমিশন

হাইকোর্টের নির্দেশের পর একদিকে বেআইনি বন্যপ্রাণী কেনাবেচা বন্ধে প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। অন্যদিকে বৈধ ব্যবসায়ীদের একাংশের জীবিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। সেই জটিলতা নিয়েই এবার আদালতের দ্বারস্থ গালিফ স্ট্রিটের প্রায় ৬০০ ব্যবসায়ী। ৬ অক্টোবরের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।