চার মাস হয়েছে বিজেপি সরকার গড়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তার মধ্যেই দেদার তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তি চরমে উঠেছে শাসক শিবিরের। বারবার সতর্ক করেও লাভ হয়নি। এমনকী বিধায়ক-নেতা থেকে কর্মীদের দল থেকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও তোলাবাজির অভিযোগ থামেনি। এবার তোলাবাজির অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই তোলাবাজির বিষয়টি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই কড়া দাওয়াই দিলেন তিনি বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে তোলাবাজি যে থামেনি সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শমীকের কথায়। বিজেপির যে তোলাবাজি করার প্রয়োজন নেই সেটা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এবার একেবারে কড়া পদক্ষেপ করলেন তিনি। সরাসরি পুলিশকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়ে তোলাবাজ নেতা-কর্মীদের মূলস্রোতে নিয়ে আসতে চাইলেন তিনি। এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘ট্রেড ইউনিয়নের নাম করে কারখানা থেকে তোলাবাজি করলে ব্যবস্থা নিক পুলিশ। কারণ বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়নই নেই। কারখানা থেকে চাঁদা তোলার কোনও সিস্টেম নেই বিজেপির।’ ডানকুনিতে এই ধরনের অনৈতিক কাজ ধরা পড়লে সরাসরি গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন শমীক ভট্টাচার্য।
অন্যদিকে কদিন আগে শমীক বলেছিলেন, ২০-২৫ জন বিধায়ক চলে গেলে দলের কিছু যাবে আসবে না। তোলাবাজির দায় দল নেবে না। শনিবার শমীক ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দেন, ‘ডানকুনিতে কিছু মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে এই ধরনের কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। যদি বিজেপির কেউ হয় তাহলে বিজেপির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এটা নিশ্চিত। যদি কেউ বিজেপি সেজে ফেলে তাহলে সেখানে বিজেপির দায়িত্ব নেই। সেখানে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’ এদিন ডানকুনিতে একটি কারখানার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এই ভাষাতেই কড়া দাওয়াই দেওয়ার কথা বলেছেন শমিক ভট্টাচার্য।
তাছাড়া যাদবপুর থেকে শুরু করে বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া-সহ নানা জেলা থেকে তোলাবাজির অভিযোগ পার্টি অফিসে জমা পড়েছে। তার জেরেই এদিন কড়া পথে হাঁটতে বাধ্য হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাই বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীকের বার্তা, ‘বিজেপি আসার পর সিন্ডিকেড শব্দটা উঠে গিয়েছে। এরপরও কিছু মানুষ দলের পতাকা নিয়ে চার ঘণ্টায় বিজেপি সেজেছে। এখানে পুলিশের বড় কর্তারা আছেন। কোনও রাজনৈতিক ঝাণ্ডা নিয়ে কেউ আসেন বা ট্রেড ইউনিয়নের কোনও দাবির কাছে মাথানত করবেন না। আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন নেই। তোলাবাজির অভিযোগ পেলেই গ্রেপ্তার করবেন।’




