‘শারদোৎসব’ নাম ব্যবহার করে বইয়ের স্টলের অনুমোদন দেওয়া হবে না—এমনই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে সিপিএমের বইয়ের স্টলে কেন মার্ক্স-লেনিনের বই থাকে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সেই বিতর্কের আবহেই দুর্গাপুজোর আগে জোরকদমে বই ছাপার কাজে নেমে পড়েছে বামেরা।
সূত্রের খবর, এ বার বামেদের অধিকাংশ বইয়ের স্টলের নাম হতে পারে ‘মার্ক্সীয় সাহিত্য পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র’ অথবা ‘প্রগতিশীল সাহিত্য পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র’। শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের বই নয়, স্টলে এবার মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবিও বেশি করে রাখা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
শারদ বইয়ের তালিকাতেও থাকছে বৈচিত্র্য। স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা বইয়ের নতুন মুদ্রণ যেমন থাকছে, তেমনই থাকছে আদি শঙ্করাচার্য ও গৌতম বুদ্ধকে নিয়ে লেখা বই। দুর্গাপুজোর মরসুমে চাহিদা মাথায় রেখে এই বইগুলির সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গণশক্তি মুদ্রণালয়ে জোরকদমে চলছে বই ছাপার কাজ।
তবে বিবেকানন্দ বা আদি শঙ্করাচার্যকে নিয়ে বই প্রকাশ বামেদের কাছে নতুন নয়। আগেও এই ধরনের বই ছাপা হয়েছে। এ বার পাঠকের চাহিদা বাড়ায় সেই বইগুলির মুদ্রণসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
বিষয়টি নিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের স্টলে যে ধরনের বই বরাবর থাকে, এ বারও সেই বই থাকবে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রগতিশীল বইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞানের বইও থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী না জেনেই উত্তেজনা তৈরি করছেন।”
বিবেকানন্দকে নিয়ে বই প্রকাশের প্রসঙ্গেও একই সুর সুজনের। তাঁর দাবি, আগেও বিবেকানন্দকে নিয়ে বই ছাপা হয়েছে। এ বার চাহিদা বেশি হলে সেই বই আরও বেশি সংখ্যায় ছাপা হবে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বামী বিবেকানন্দের ছোট ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত একসময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে সমাজতন্ত্রের নীতি প্রচার করেছিলেন।
ফলে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর এ বারের দুর্গাপুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি মনীষী ও সমাজচিন্তকদের নিয়ে প্রকাশনার দিকেও বিশেষ নজর থাকছে।




