ঐতিহ্যবাহী কলকাতা হাইকোর্টের মূল ভবনের ছাদে দুর্গাপুজো আয়োজনের অনুমতি চেয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই আবেদনকে জনস্বার্থ মামলার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ‘শারদ সাধনা’ আয়োজনের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়েছিল। দুর্গাপুজোর জন্য হাই কোর্টের মূল ভবনের ছাদকে বেছে নেওয়া হয়। সেই আবেদনকে কেন্দ্র করেই আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।
আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি স্বীকার করে এবং প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মাচরণের অধিকার দিয়েছে। হাই কোর্টের একটি সংলগ্ন ভবনের ছাদে প্রতি শুক্রবার নমাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে বলেও আদালতের সামনে উল্লেখ করা হয়। সেই যুক্তি তুলে ধরে হাই কোর্টের ছাদে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি ‘ভারতমাতার মন্দির’ তৈরির অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল।
তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। প্রধান বিচারপতি ঘুগে স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি জনস্বার্থ মামলার আওতায় পড়ে না। সম্প্রতি একাধিক জনস্বার্থ মামলার প্রসঙ্গেও আদালত পর্যাপ্ত তথ্য ও নথি ছাড়া মামলা দায়ের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই মামলাতেও আদালতের মূল প্রশ্ন ছিল, ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট কোনও ধর্মীয় আয়োজনের অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি কীভাবে বৃহত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। সেই যুক্তিতেই মামলাটি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়ে তা খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
ফলে হাই কোর্টের ছাদে দুর্গাপুজো আয়োজনের অনুমতির পথও আপাতত বন্ধ হল। আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, ধর্মাচরণের সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও সেই অধিকার প্রয়োগের প্রশ্নটি আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক পরিসর ও জনস্বার্থ মামলার নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে বিচার করতে হবে।




