শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচটা হাতছাড়া হতে পারে। কিন্তু মাঝের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনের জালে এমন ভাবে আটক হয়ে যায় যে, শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে ম্যাচে জিতে নিল তারা।
এই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ম্যাথিউ ব্রিটজকে। দুরন্ত ১১২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। সঙ্গে মার্কো জ্যানসেনের ৭৫। বৃহস্পতিবার ডারবানে প্রথম এক দিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে বেশ চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। উইকেট কিছুটা মন্থর হওয়ায় রান তোলা সহজ ছিল না। কিন্তু চার নম্বরে নেমে ব্রিটজকে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়েন। পরে তাঁকে সঙ্গ দেন জ্যানসেন। দু’জনে মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ১০৭ রান যোগ করেন। ব্রিটজকে ১০৬ বলে ১১২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পরিণত ব্যাটিংয়ের সঙ্গে প্রয়োজনমতো আক্রমণও। জ্যানসেন ৫৯ বলে ৭৫ রান করে নিজের ওয়ান ডে কেরিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর স্পর্শ করেন।
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস তিনটি এবং অ্যাডাম জাম্পা দু’টি উইকেট নেন। কিন্তু সেই বোলিংয়ের সাফল্যকে পরে কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
জবাবে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল একেবারে আগুনে। মিচেল মার্শ মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে প্রথম উইকেটে মাত্র ৯.২ ওভারে ৯০ রান যোগ করেন তিনি। ১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান পৌঁছে যায় ১২৯-১-এ। মনে হচ্ছিল, ২৯৮ রান তাড়া করা সময়ের ব্যাপার।
কিন্তু সেখানেই বদলে যায় ম্যাচের ছবি। কেশব মহারাজ ও বিয়র্ন ফর্টুইনের স্পিনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। মহারাজ ৯.২ ওভারে ২০ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। ফর্টুইন আট ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন দু’টি। অস্ট্রেলিয়ার শেষ ন’টি উইকেট পড়ে মাত্র ১০১ রানে। ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস।
ম্যাট রেনশ ৪৪ রান করেছিলেন। তাঁকে ফেরানোর সময় জ্যানসেনের অসাধারণ এক হাতে নেওয়া ক্যাচও ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে ওঠে। ওই উইকেটের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
হারের পরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। দক্ষিণ আফ্রিকা আমাদের চেয়ে ভাল খেলেছে। ম্যাচটা ভাল হয়েছিল, কিন্তু আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। আমাদের সুযোগ ছিল। ব্যাটিংয়ে পার্টনারশিপ গড়ার কথা বলতে বলতে হয়তো আমার নিজেরই মনে হচ্ছে একই কথা বার বার বলছি, কিন্তু আমরা সে রকম বেশি পার্টনারশিপ গড়তে পারিনি’।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা অবশ্য দলের পারফরম্যান্সে খুশি। তাঁর কথায়, ‘আমি খুব সন্তুষ্ট। ব্যাটার এবং বোলার—দু’দিক থেকেই এটা ছিল দারুণ লড়াই। দুই ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারেই আমরা চাপে পড়েছিলাম। কিন্তু সেই পরিস্থিতি সামলে ওই উইকেটে বড় রান তুলতে পেরেছি।’
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ওয়ান ডে রবিবার জোহানেসবার্গে। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।




