উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধাম (Badrinath Dham)। হিমালয়ের কোলে অন্যতম পবিত্রতম তীর্থক্ষেত্র। সনাতনী সংস্কারে এখানে উচ্চস্বরে কোনও কিছুই নিষেধ। তাই শাঁখও বাজে না। এ হেন বদ্রীনাথ ধাম চত্বরেই এবার চটুল নাচ আর ডিজে মিউজিকের ঝঙ্কারে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একের পর এক ভিডিয়ো ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, হিন্দু ধর্মের তথাকথিত অভিভাবকরা তীর্থক্ষেত্রের পবিত্রতা ঠিকমতো রক্ষা করছেন তো?
কী ঘটেছে বদ্রীনাথে
গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর বদ্রীনাথের ট্যুরিস্ট অ্যারাইভাল প্লাজায় (Tourist Arrival Plaza) আয়োজিত হয়েছিল দেবভূমি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ (Devbhoomi Cultural Festival 2026)। ভারতীয় সেনার (Indian Army) উদ্যোগে, স্থানীয় বাসিন্দা ও উত্তরাখণ্ড ট্যুরিজমের (Uttarakhand Tourism) সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবের থিম ছিল আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ। লোকসংগীত, নাচ, হস্তশিল্পের পসরা সাজিয়ে উৎসব শুরু হলেও, প্রথম দিনেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
উৎসবের প্রথম দিনে মঞ্চে অর্কেস্ট্রার আয়োজন করা হয়। গান করতে ওঠেন গায়িকা প্রিয়াঙ্কা মেহের (Priyanka Meher)। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জোরালো শব্দে বাজছে গান, মঞ্চের সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে নাচছেন দর্শকরা। বদ্রীনাথের স্থানমাহাত্ম্যের সঙ্গে যা একেবারেই মানানসই নয় বলে দাবি।
There’s a REASON why evn Shankh is forbidden in Badrinath Dham. That place has its own sanctity. And nw? DJs are blasting there. Club style music has a time & place. A sacred Teerth is NOT it. This govt’s obsession to make every Dham a picnic spot is ruining the soul of Devbhumi. pic.twitter.com/IwTVViWfIn
— Himalayan Hindu (@himalayanhindu) September 22, 2026
কেন আপত্তি
himalaynhindu নামে এক এক্স (X) ব্যবহারকারী প্রথম প্রশ্ন তোলেন, বদ্রীনাথের মতো পবিত্র স্থানে ক্লাব-ধাঁচের জোরালো ডিজে-মার্কা গানবাজনা কতটা যুক্তিযুক্ত। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রিয়াঙ্কা মেহের বা অন্য পাহাড়ি শিল্পীদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও আপত্তি নেই, প্রশ্ন উঠেছে এমন অনুষ্ঠান ওই স্থানে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বদ্রীনাথ মন্দিরে বহু যুগ ধরে শঙ্খ বাজানোরও রীতি নেই।
এরপরেই এই বিতর্কে যোগ দেন উত্তরাখণ্ডের সমাজকর্মী অনুপ নৌটিয়াল (Anoop Nautiyal)। তিনিও ওই পোস্ট শেয়ার করে জানান, ভেন্যু বাছাই নিয়ে তাঁরও একই উদ্বেগ। এর পরেই সমাজমাধ্যমে প্রশ্নের ঝড় ওঠে, এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলেন কে, এবং তীর্থক্ষেত্রকে কি ক্রমশ বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত করা হচ্ছে।
দায় কার
তবে গোটা বিতর্ক একপেশে হয়নি। অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, দোষ শুধু শিল্পীর ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়। বরং প্রশ্ন তোলা উচিত আয়োজক ও অনুমতিদাতা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে, অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করার সময় স্থানের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কতটা মাথায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে। উল্লেখ্য, উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর বদ্রীনাথে যান উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি (Pushkar Singh Dhami)। মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি উৎসবেও যোগ দেন। তবে বিতর্কের কেন্দ্রে উৎসবের সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং তার সংগীত-বিন্যাস ও স্থান নির্বাচন নিয়েই উঠছে যাবতীয় প্রশ্ন।
বারবার প্রশ্নের মুখে
বদ্রীনাথের এই ঘটনাটাই একমাত্র নয়। গত কয়েক বছরে হিমালয়ের চার ধামেই (Char Dham) বারবার একই ধরনের বিতর্ক দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে কেদারনাথ ধামের প্রাঙ্গণে জোরালো ডিজে বাজিয়ে নাচগানের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসন মামলা রুজু করেছিল। আবার চলতি বছরের জুন মাসে মানা গ্রামের স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন (Stairway to Heaven) এলাকায়, পাণ্ডব মূর্তির কাছেও পর্যটকদের জোরালো গান বাজিয়ে নাচের ভিডিয়ো ঘিরে একই রকম ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল সমাজমাধ্যমে।
এমনই বারবার নিয়ম ভাঙার ঘটনায় পিছনে একটাই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে। পর্যটন (tourism) আর তীর্থযাত্রার (pilgrimage) মধ্যে স্পষ্ট একটা রেখা টানার সময় কি এসে গিয়েছে? বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (BKTC) এর আগে রিলের জন্য পবিত্রতা নষ্ট হওয়া রুখতে মোবাইল ফোন জমা রাখার ক্লোকরুম তৈরির দাবিও তুলেছিল প্রশাসনের কাছে। এবারের ঘটনার পর ফের একবার সেই একই বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে।




