• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 22 September, 2026

‘জিতলে ভেঙে ফেলব’ ইউটিউবারের পোস্ট, টেক্সাসে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি নিয়ে বিতর্ক

টেক্সাসের সুগার ল্যান্ডে আস্থালক্ষ্মী মন্দিরে রয়েছে ওই হনুমান মূর্তি। যার নাম ‘স্ট্যাচু অব দ্য ইউনিয়ন’। ২০২৪ সালের আগস্টে মূর্তিটির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে

‘জিতলে ভেঙে ফেলব’ ইউটিউবারের পোস্ট, টেক্সাসে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি নিয়ে বিতর্ক

Image: X/@JesseHughesNC

আগামী নভেম্বরে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই আবহে ফের রাজনৈতি বিতর্কের কেন্দ্রে ভারতীয়-আমেরিকান এবং হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাস। টেক্সাসে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি সরিয়ে ফেলার ডাক দিয়েছে ইউটিউবার জেসি হিউজ। সমাজমাধ্যমে তাঁর করা একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

টেক্সাসের সুগার ল্যান্ডে আস্থালক্ষ্মী মন্দিরে রয়েছে ওই হনুমান মূর্তি (Hanuman Statue)। যার নাম ‘স্ট্যাচু অব দ্য ইউনিয়ন’ (Hanuman Statue)। ২০২৪ সালের আগস্টে মূর্তিটির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরের কয়েকজন এই মূর্তিকে ‘অ-খ্রিস্টান’ বলেও মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: টরন্টো প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জয় নাগাল্যান্ডের ‘অঙ্গ’ ছবিকে পৌঁছে দিল অস্কারের মঞ্চে

এরই মধ্যে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ (MAGA)-এর সমর্থক জেসি হিউজ মূর্তিটির (Hanuman Statue) একটি ছবি এক্স-এ পোস্ট করেন। ছবিটির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘যাই হোক, আমরা জিতলে এটা ভেঙে ফেলব।‘ তাঁর এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।

হিউজের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন একাধিক হিন্দু সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য রুজির বক্সি মন্তব্যটিকে ‘অদেশপ্রেমিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বক্সির বক্তব্য, কোনও ধর্মকে অপছন্দ করার কারণে একটি সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল ভাঙার কথা বলার অর্থ ধর্মীয় বিদ্বেষকে উসকে দেওয়া। তাঁর কথায়, আমেরিকার জেতার অর্থ যদি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলা হয়, তা হলে তিনি যে দেশের জন্য লড়াই করেছিলেন,তা ব্যর্থ।

বক্সির বক্তব্যকে সমর্থন করেছে, ‘কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা’। টেক্সাসের আর এক প্রাক্তন মার্কিন সেনাকর্মী তথা রাজনৈতিক ভাষ্যকর কার্ল হুইলেসও হিউজের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন: রাজ্যে পাকাপাকিভাবে উঠে যাচ্ছে ৯৩৩টি স্কুল! ঘোষণা মন্ত্রীর, এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক

টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি। রাজ্যটিতে পাঁচ লক্ষেরও বেশি ভারতীয়-আমেরিকান বসবাস করেন। বর্তমানে রাজ্য সরকার এবং আইনসভার উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

এই মিডটার্ম নির্বাচনের প্রচারে টেক্সাসে অভিবাসন-বিরোধী বক্তব্যও বার বার উঠে এসেছে। দ্বিতীয় বার ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে বলে খবর।

টেক্সাসে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগও উঠেছে। গত সপ্তাহে টেক্সাসে রেলরোড কমিশনার পদে রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফেঞ্চ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের একটি ফুটবল ম্যাচের ছবি এক্স-এ পোস্ট করেন। ছবিতে মূলত দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত পড়ুয়াদের দেখা যায়।

ফ্রেঞ্চের ওই পোস্টের সমালোচনা করেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কর্নিন। তিনি অন্য রিপাবলিকান নেতাদেরও এই ধরনের মন্তব্যের নিন্দা করার আহ্বান জানান। হাউস ডেমোক্র্যাটিক লিডার হাকিম জেরিসও অভিযোগ করেন, দক্ষিণপন্থী রিপাবলিকানদের একাংশ নিয়মিতভাবে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। পরে তিনি তা নিয়ে কফিয়তও দিয়েছিলেন।

দেখুন: