কসবার জমি জালিয়াতি ও বেআইনি নির্মাণ ঘিরে তদন্তে এ বার কলকাতা পুরসভার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজনলাল মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে এল। জালিয়াতি ও তোলাবাজি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা।
এই তদন্তে বিজনলালের নাম উঠে আসার সূত্র তাঁর ছেলে সম্রাট মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের একাধিক ধারাতেও মামলা রুজু করা হয়েছে। ছেলের গ্রেফতারির পরই তদন্তকারীদের নজরে আসেন প্রাক্তন কাউন্সিলর।
তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন, কসবা এলাকায় ছেলে ও তাঁর সহযোগীদের কথিত বেআইনি কার্যকলাপে বিজনলালের কোনও প্রভাব বা ভূমিকা ছিল কি না। পাশাপাশি ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কথিত সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ। অভিযোগ, কসবা এলাকায় জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের নেপথ্যে ওই চক্র সক্রিয় ছিল। সেই চক্রের সঙ্গে প্রাক্তন কাউন্সিলরের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, কিংবা এই বেআইনি কারবার থেকে তিনি কোনও আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার পর বিজনলালের সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তাঁর কাছে থাকা আরও কোনও নথি বা তথ্য তদন্তে প্রয়োজন কি না, সেই বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, গত ১৮ জুলাই এক স্থানীয় প্রোমোটার কসবা থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কসবার এই তদন্তের আবহে কলকাতার একাধিক প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধির গ্রেফতারির ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগে শাসকদলের একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই ভাবে দুর্নীতির অভিযোগে এক সময়ের প্রভাবশালী কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। ফলে কসবার জমি ও নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই এখন নজর।




