সামনেই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। রেজিনগর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেই জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে গিয়ে দেখা করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তখন কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তারপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুরনো মামলায়। কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দাঁড়িয়েছে। এই আবহে এবার কংগ্রেস এবং তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ শানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধীকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে পঞ্চায়েতমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম কোচবিহারে এলেন দিলীপ ঘোষ। সাগরদিঘির পাশে ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পঞ্চায়েতের অডিট এবং প্রশাসনিক বৈঠক নিয়ে কড়া বার্তা দেন। রবিবার একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। রবীন্দ্রভবনে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার প্রায় ৬৫০ জন আধিকারিককে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি করলে কেউ ছাড়া পাবে না। মন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম কোচবিহারে এসেছি। কোচবিহারের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতেই এই সফর।’
অন্যদিকে উপনির্বাচন নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি সরগরম। তাই সে বিষয়েও তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। কারণ এখন নতুন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তৃণমূল। আর তৃণমূলের এখন একটা ভাগও হয়েছে। বিজেপি এই সার্বিক পরিস্থিতি কেমন চোখে দেখছে? এই প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষের তোপ, ‘সবাই প্রচার করবেন এবং সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট হওয়া উচিত। কংগ্রেস কোথায়, কেউ জানেন না। রাহুল গান্ধীর বাংলায় উপনির্বাচনের প্রচারে আসা উচিত। তাহলে উনি বুঝবেন এখানে রাজনীতি কেমনভাবে হয়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী ভেগে যাচ্ছে তাঁকে ছেড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকি জীবন আদালতে গিয়ে কাটবে। হাইকোর্টে যাক, সুপ্রিম কোর্টে যাক তিনি। কেউ মানা করেনি তাঁকে।’
তাছাড়া এই উপনির্বাচনে বিরোধী খুঁজেই পাচ্ছেন না পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তবে এদিন সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের অডিট খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। কোথাও কোনও খামতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘আগের সরকারের আমলে ব্যাপক অর্থ তছরুপ হয়েছে। দলের সমস্ত কর্মীকেও তাই সতর্ক করা হচ্ছে।’ এরপরই উপনির্বাচন নিয়ে দিলীপ ঘোষের খোঁচা, ‘বিরোধী দল কোথায় সেটা বোঝা যাচ্ছে না। বিরোধী প্রার্থী নেই, কিছুই নেই। শুধু অভিযোগ করছেন, এতে কিছু হয় না। ময়দানে লড়তে হয়। সমাজবিরোধীদের নিয়ে এতদিন রাজনীতি করত তৃণমূল কংগ্রেস। মানুষ সুযোগ পেতেই তাদের হারিয়ে দিয়েছে। এখনও সমাজবিরোধীদের নিয়ে চলার চেষ্টা করছে। তাই আইন আইনের মতো কাজ করছে।’




