• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 20 September, 2026

আবার সরগরম যাদবপুর, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক-কাউন্সিলরের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

তাছাড়া কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদেরও মারধর এবং শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে

আবার সরগরম যাদবপুর, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক-কাউন্সিলরের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

Jadavpur Violence Photo-SNS

রাতের অন্ধকারে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুরের বিজয়গড় ও বাঘাযতীন এলাকা। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে তাণ্ডব করার অভিযোগকে ঘিরে তুমুল আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ল। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বিজয়গড়ের বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা হয়। তারপর প্রাক্তন বিধায়ককে হুমকি এবং তাঁর দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন প্রাক্তন বিধায়কের পরিবার। পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব দর্শকের মতো। এমনকী ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুঠতরাজ চালায় একদল দুষ্কৃতী। যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে বিজয়গড় বাজার এলাকায় মোটরবাইক বাহিনী দাপট দেখাতে শুরু করে। তার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেটা চলে রাত পর্যন্ত। তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে প্রাক্তন বিধায়ক, কাউন্সিলরের উপর হামলা নামিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ। একদল দুষ্কৃতী এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর করে। তার আগে তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তারা দেরিতে আসে বলে অভিযোগ। এমনকী অভিযোগ পেয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছে।

প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, অনুপম তালুকদার এবং সজল বসু নামের দুই বিজেপি নেতার নেতৃত্বে এই হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুরসভা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূল পার্টি অফিস খোলা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে তারা বলে অভিযোগ উঠেছে ওই বিজেপির দুই নেতাদের দলবলের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘কমপক্ষে ১০০ লোক এসে বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বাড়ির সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমার দাদাকে ধাক্কা মেরেছে। আমার সারাজীবনের রাজনৈতিক কেরিয়ারে এমন দেখিনি। এরা সকলেই বিজেপি করে। কয়েকজনকে চিনিও।’

তাছাড়া কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদেরও মারধর এবং শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে ভাঙচুর এবং পরে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আনন্দপল্লি, বিজয়গর, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ চারটি তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এরপর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দীর্ঘ অভিযোগ তোলার পাশাপাশি আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরী, সীমা ঘোষ, বসুন্ধরা গোস্বামীরা রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ যাদবপুর থানার সামনে থেকে সুর চড়ান। আর রবিবার সকালে বিজয়গড় থেকে গাঙ্গুলিবাগান পর্যন্ত মিছিল করেন তাঁরা। সেখানে প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের পথে হাঁটার কথা জানান।