বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের এক পার্বণ হল বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja)। বিশ্বকর্মার (Vishwakarma Puja) আগমন জানিয়ে দেয় দুর্গাপুজো সমাগত। এবছর বৃষ্টি হলেও প্রতিবছর এই সময় শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়। আর সেই সঙ্গে আকাশে দেখা যায় অসংখ্য ঘুড়ি। বিশ্বকর্মা হলেন শিল্পী। তিনি দেবতাদের ইঞ্জিনিয়ার (Vishwakarma Puja) হিসেবেই পরিচিত। প্রতি বছরই ১৭ সেপ্টম্বর এই দেবতার আরাধন করা হয়। অন্যান্য দেবদেবীদের পুজোর দিন-তারিখে অন্যথা হলেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কিন্তু একই থাকে। ১৭ সেপ্টেম্বর মানেই বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja)। তবে এ বছর ১৭ নয়, ১৮ সেপ্টেম্বর হচ্ছে দেবশিল্পীর পুজো। প্রতিবছর আকাশ পরিষ্কার থাকলেও এবছর প্রকৃতি খামখেয়ালিপনায় মেতে উঠেছে। সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। প্রকৃতির বদলের সঙ্গে এবছর পুজোর তারিখেও ঘটেছে বদল। কেন এই বছর বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishwakarma Puja) তারিখে এই বদল?
আর বিশ্বকর্মার পুজো (Vishwakarma Puja) এলে রান্নাপুজোর (Ranna Puja) কিন্তু তার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে আসে। বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishwakarma Puja) দিন নানা পদ রান্না করে রেখে দেওয়া হয়। সেটাই রান্নাপুজো (Ranna Puja)। আর তা খাওয়া হয় পরের দিন। অর্থাৎ অরন্ধন (Ranna Puja), বাড়িতে কোনও আগুন জ্বালানো যাবে না। তবে কাকতালীয়ভাবে বিশ্বকর্মার পুজোর (Vishwakarma Puja) সঙ্গে রান্নাপুজো (Ranna Puja) হলেও এর সঙ্গে বিশ্বকর্মার (Vishwakarma Puja) কোনও যোগ নেই। রয়েছে সর্পদেবী মনসার। এই দুই পুজোই হয় সূর্য সিংহ রাশি ছেড়ে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করলে। পঞ্জিকা মতে ভাদ্র মাসের শেষ দিন, কন্যা সংক্রান্তিতে। একমাত্র এই কারণে বিশ্বকর্মার পুজোর (Vishwakarma Puja) দিন রান্নাপুজো (Ranna Puja) হয়ে থাকে। এছাড়া আর কোনও যোগ নেই। এবার আসা যাক কেন ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja) হয়।
আরও পড়ুন: বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, আজও তাঁর ঐতিহ্য বহমান
১৭ সেপ্টেম্বর কেন বিশ্বকর্মাপুজো হয়?
সাধারণত সমস্ত দেবদেবীদের পুজোর তিথি চাঁদের গতির উপর নির্ভর করে হয়। চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসরণ করে তারিখ রাখা হয়। কিন্তু বিশ্বকর্মার (Vishwakarma Puja) ক্ষেত্রে তার অন্যথা ঘটে। চাঁদ নয়, সূর্যের অবস্থানের উপর নির্ভর করে পুজো করা হয়। সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে এল শুরু হয় উত্তরায়ণ। দেবাতারা এতদিন নিদ্রায় ছিলেন। উত্তরায়ণের সময় তাঁরা জেগে ওঠেন। বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishwakarma Puja)মধ্যে দিয়ে দেবতাদের পুজোর আয়োজন শুরু হয়। সূর্য প্রতি রাশিতে মোটামুটি এক মাস করে থাকে। তাই বিভিন্ন রাশিতে সূর্যের অবস্থান করার দিন মোটামুটি স্থির থাকে। প্রায় প্রতি বছর সূর্য ১৭ সেপ্টেম্বর কন্যা রাশিতে অবস্থান করে। আর সে জন্যই প্রতিবছর একই দিনে বিশ্বকর্মার পুজোর (Vishwakarma Puja) আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: মান্দালায় জেলে বসে দুর্গাপুজো করেছিলেন সুভাসচন্দ্র বসু
এ বছর কেন ১৮ সেপ্টেম্বর পুজো হচ্ছে?
ভাদ্র মাসের শেষ দিন বিশ্বকর্মা পুজো হয়। ভাদ্রসংক্রান্তি আগের দিন থেকে গোনা শুরু করলে প্রায় পাঁচ মাস রয়েছে। দিন সংখ্যা প্রায় বাঁধা। সব মিলিয়ে মোট দিনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৬-র মতো। এই নিয়ম মেনে, পঞ্জিকামতে বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishwakarma Puja) বাংলা তারিখটি বেরোয়, তা ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৭ সেপ্টেম্বর পড়ে। কোনও কোনও বছরে এই পাঁচ মাসের মধ্যে কোন মাস ২৯ বা ৩২ দিনের হয়। তখনই বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja) এক দিন পিছিয়ে বা এগিয়ে যায়। এ বছরই যেমন একদিন পিছিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর পুজো পড়েছে। সূর্য ১৭ সেপ্টেম্বর কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে। বাংলা মাসের তারিখ মেনে তাই একদিন পিছিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে শিল্পী দেবতা বিশ্বকর্মার পুজো (Vishwakarma Puja)।
দেখুুন:




