• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 17 September, 2026

রিজওয়ানের আবেদন খারিজ লাহোর হাই কোর্টে, সাইবার তদন্তে ব্যাকফুটে পাকিস্তান তারকা

সিরিজের মাঝপথে তাঁকে-সহ সাত জন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো হয়েছিল। এর পর পিসিবি অভ্যন্তরীণ ভাবে ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে তদন্ত শুরু করে। রিজওয়ান এবং ইমামকে প্রেসিডেন্টস ট্রফির ঘরোয়া ম্যাচ থেকেও সাময়িক ভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

রিজওয়ানের আবেদন খারিজ লাহোর হাই কোর্টে, সাইবার তদন্তে ব্যাকফুটে পাকিস্তান তারকা

Photo: X

মাঠের বাইরের বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না মহম্মদ রিজওয়ানের। জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NCCIA)-র তদন্তের বিরুদ্ধে লাহোর হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার। বৃহস্পতিবার সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম শুনানি শেষে রিজওয়ানের আইনজীবীকে আগে তদন্তকারী সংস্থার নোটিসের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিজওয়ানের বিরুদ্ধে অনলাইন বেটিং বা জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করছে NCCIA। তবে রিজওয়ানকে কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি এবং তদন্ত এখনও চলছে। একই তদন্তে পাকিস্তানের আর এক ব্যাটার ইমাম-উল-হকের নামও রয়েছে। দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁদের মোবাইল ফোনও তদন্তের জন্য জমা রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আদালতে রিজওয়ানের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কাজি উমাইর আলি। তিনি দাবি করেন, ৮ সেপ্টেম্বর রিজওয়ানকে যে নোটিস দেওয়া হয়েছিল, তা আইনসঙ্গত নয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, লর্ডস টেস্টের পরে রিজওয়ানকে হোটেলের লবিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও আদালতে জানান তিনি।

আইনজীবীর যুক্তি ছিল, ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে বিষয়টি দেখার উপযুক্ত জায়গা আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট। কিন্তু রিজওয়ানের ক্ষেত্রে সেই পথে না গিয়ে NCCIA তদন্ত করছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে আদালত আপাতত সেই যুক্তিতে ঢুকতে চাননি। প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম রিজওয়ানের আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি গিয়ে নোটিসের জবাব দিন। আপনাকে নোটিসটি কোন তারিখে দেওয়া হয়েছিল?’ পরে তিনি আবেদনটি গ্রহণ না করে আগে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রিজওয়ানের আবেদনে NCCIA-র তদন্তের এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অনলাইন বেটিং সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এ ভাবে তদন্ত চালানোর আইনি ভিত্তি নেই। এমনকি তদন্তটিকে হয়রানি এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এর মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। NCCIA রিজওয়ান ও ইমামের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষা করছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আগামী সপ্তাহে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে দেওয়া হতে পারে। তার পরেই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা ঠিক করবে বোর্ড।

এক সূত্রের দাবি, ‘NCCIA যে রিপোর্ট বোর্ডকে দেবে, তার উপরেই নির্ভর করবে বোর্ড দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়। ফরেন্সিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক কিছু না পাওয়া গেলে তাঁরা হয়তো স্বস্তি পেতে পারেন।’

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ৩-০ টেস্ট সিরিজ হারের পর থেকেই রিজওয়ানকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। সিরিজের মাঝপথে তাঁকে-সহ সাত জন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো হয়েছিল। এর পর পিসিবি অভ্যন্তরীণ ভাবে ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে তদন্ত শুরু করে। রিজওয়ান এবং ইমামকে প্রেসিডেন্টস ট্রফির ঘরোয়া ম্যাচ থেকেও সাময়িক ভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

ফলে মাঠে পাকিস্তানের হয়ে কবে আবার দেখা যাবে রিজওয়ানকে, তার থেকেও এখন বড় প্রশ্ন—NCCIA-র তদন্তের শেষ ফল কী হয়। লাহোর হাই কোর্টের বৃহস্পতিবারের নির্দেশের পর সেই তদন্তের পথ আপাতত আরও পরিষ্কার হল।