জমি বিবাদ নিয়ে রাস্তায় নেমে লড়াই করতে দেখা গিয়েছিল কদিন আগেই। তারপর জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপমান করার মতো অভিযোগ তুলেছিলেন। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। পড়াশোনা জানেন না বলে বিজেপির জেলার নেতারা তাঁকে অপমান করেন। দূরে সরিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এবার পদত্যাগ করার জন্য তিনি প্রস্তুত বলে দলকে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। সন্দেশখালি আন্দোলনের সময় সামনে আসেন রেখা পাত্র। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। কিন্তু ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে হিঙ্গলগঞ্জ আসন থেকে জয়ী হন রেখা।
এখন দলের কাছে গলার কাঁটা হয়ে উঠেছেন রেখা পাত্র। একদা যাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শক্তিস্বরূপা বলেছিলেন। সেই রেখা পাত্র এখন তাঁর সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। আর সেই সূত্রেই এবার পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিলেন রেখা পাত্র। হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়কের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে মুখ বেঁধে দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাড়ির সামনে এসে অশ্লীল গালিগালাজ করছে। তাঁর মাকে মারধর করারও চেষ্টা হয়েছে। সন্দেশখালির বউ ঠাকুরানি এলাকায় তাঁদের বাপের বাড়ি। সেখানে তাঁর মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনায় শরিক নস্কর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
জমি বিবাদ নিয়ে কদিন আগে থেকেই সোচ্চার হন রেখা পাত্র। জেলার নেতাদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেন তিনি। এবার পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে না থেকে শুরু করে অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করছে না বলেও সুর চড়িয়েছেন। রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপির। রেখা পাত্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমার মা একা থাকেন। তাঁকে মারার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের গোটা পরিবার অত্যাচারের শিকার। এটা বহু বছর ধরে চলছে। আমার পরিবারের উপরে যদি কোনও আঘাত আসে, তাহলে পুলিশ-প্রশাসনকে ছেড়ে কথা বলব না। আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে বা সাসপেন্ড করতে চাইলে আমি নিজেই পদত্যাগ করতে তৈরি।’
উল্লেখ্য, কদিন আগেও রেখা পাত্র জেলার নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া অপমান নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বোমা ফাটিয়ে ছিলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক। পড়াশোনা জানেন না বলে নিজের দলের নেতাদের কাছেই অপমানিত হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ ছিল তাঁর। সাংবাদিকদের সামনে রেখা পাত্রের অভিযোগ ছিল, ‘জেলা থেকে আমাকে ভুল পথে চালিত করা হয়। তাই আমি জেলার কোনও অনুষ্ঠানে যাই না। নিজের বিধানসভায় থেকে কাজ করি। এটা আমার দল, আমি এতদিন কিছু বলিনি। দলের কাছে যেন বার্তাটা পৌঁছয়। দল যেন ঠিকঠাক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি পড়াশোনা জানি না বলে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার কমিটি আমাকে ভুল পথে চালিত করে। সবসময় অপমান করে। অনুষ্ঠানে ডেকেও অপমান করা হয়।’




