ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জনৈক ‘মাস্টার’-কে উদ্দেশ্য করে একের পর এক অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। এ বার সরাসরি তিনি এক কর্মকর্তার নাম করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেন গত মরসুমে আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করা স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। জানিয়ে দিলেন, তাঁর এবং তাঁর ব্যাকরুম স্টাফদের বিরুদ্ধে চলা প্রচারের জন্য ‘নীতু দাকে দায়ী’ করছেন।
গতকাল জনৈক ‘মাস্টার’-এর বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের দল গঠন-সহ প্রায় সব ব্যাপারে নাক গলানোর অভিযোগ করে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন অস্কার। লিখেছিলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য দলের ব্যর্থ হওয়া প্রয়োজন ছিল। আমার মূল্যায়ন, খারাপ ফলাফল এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করত, যেখানে ‘মাস্টার’ আবার খেলোয়াড় নিয়োগ এবং ট্রান্সফারের ওপর নিজের প্রভাব ফিরে পেতে পারতেন। আমি তাঁর দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ না করার পর, এই মরসুমে আমরা দেখেছি যে ওই সমস্ত কর্মকাণ্ডে তিনি আবার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফিরে পেয়েছেন’।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘বেশ কয়েক বার আমাকে ‘মাস্টার’-কে ড্রেসিংরুম থেকে বের করে দিতে হয়েছিল। তিনি ড্রেসিংরুমে ঢুকে খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের সদস্যদের সমালোচনা করতেন। এর ফলে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল এবং কাজের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। আমি বিষয়টিকে একেবারেই গ্রহণযোগ্য মনে করিনি এবং দলকে রক্ষা করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছিলাম’।
সব শেষে এনেছিলেন মরসুমের শেষ ম্যাচের প্রসঙ্গ। সেই ম্যাচে কী হয়েছিল? অস্কার লেখেন, ‘সেই ম্যাচের আগে ‘মাস্টার’ স্টাফের বেশ কয়েক জন সদস্যকে বলেছিলেন যে, রেফারি নাকি আমাদের পক্ষ নেবেন। সেই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। যাঁরা ম্যাচটি দেখেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বুঝতে পেরেছেন যে রেফারি স্বাধীন ভাবেই ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। তবুও এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, দলের অভ্যন্তরে কী ধরনের বয়ান এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হত’।
এ ছাড়াও আরো একাধিক অভিযোগ তিনি আনেন ‘মাস্টার’-এর বিরুদ্ধে। তাঁর এই পোস্টের পর ক্লাব কর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নিতু বলেন, ‘অস্কার আমাদের আইএসএল এনে দিয়েছেন। তিনি আমাদের নয়নের মণি। আমরা সবাই ওকে হৃদয়ে রাখব। অস্কার কী বললেন, সেটা নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই’।
কিন্তু এ বার অস্কারের অভিযোগ তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শনিবার ফের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমার স্টাফ, পরিবার এবং আমি বর্তমানে একের পর এক হুমকির বার্তা পাচ্ছি। এর মধ্যে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও রয়েছে। বিষয়টি এখন ফুটবল, সমালোচনা বা মতবিরোধের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পেরিয়ে গিয়েছে। এ নিছক ভয় দেখানো এবং হেনস্থার চেষ্টা’।
কলকাতা পুলিশ ও ভারতে স্প্যনিশ দূতাবাসকে ট্যাগ করে এই পোস্ট করেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ। তিনি আরো লেখেন, ‘ইস্টবেঙ্গলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরে যে হেনস্থা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রচার চলছে, তার বিরুদ্ধে আমি আগেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এই হুমকিগুলি আসছে’।
যারা তাঁকে ও তাঁর সাপোর্ট স্টাফ, পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ, তাঁদের পোস্টগুলিও অস্কার তাঁর এই পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করে দেন। যে দুটি স্ক্রিনশট যুক্ত করেছেন অস্কার, সেখানে লেখা হয়েছে, ভারতে এলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবার বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।
এই হুমকি, সতর্কবার্তাগুলির পাল্টা জবাব দিয়ে লেখেন, ‘প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিগত কোনও হুমকির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে আমি প্রকাশ্যে কোনও জল্পনা চাই না। তবে প্রতিটি হুমকির বার্তা নথিবদ্ধ করা ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ফুটবলে কখনওই কোচ, স্টাফদের সদস্য বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না’।
তার আগে, শুক্রবার মাঝরাতে অস্কার ব্রুজোঁ অভিযোগ করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এবং আমার ব্যাকরুম স্টাফদের বিরুদ্ধে চলা প্রচারের জন্য নীতু দাকে দায়ী করছি’।
🚨Holding Nitu Da Accountable for the Campaign Against Me and my Back Room Staff🚨 https://t.co/ewXK6EZO2h
— Oscar Bruzon (@obruzon) September 11, 2026
প্রাক্তন কোচের এই সব অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি একটি বিবৃতি পোস্ট করেন লেখেন, ‘ক্লাব ছাড়ার পর একজন ক্লাবের একাধিক ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করতেই পারে। যেমন রহস্যময় মাস্টার, গোপন এজেন্ডা, ড্রেসিংরুমের প্লট, তথ্য ফাঁস, লবি এবং অদৃশ্য হাত। এত কিছুর পরেও দলকে কোচিং করানোর সময় কিভাবে বের করে নিলেন ভেবেই অবাক হচ্ছি। অভিযোগ করা সহজ। প্রমাণ করা কঠিন। অনেকে ক্লাব ছাড়ার পর অভিযোগ করছে। কোনও ব্যক্তি, সে কোচ হোক বা প্লেয়ার বা কর্তা, প্রতিষ্ঠানের থেকে বড় নয়’।
ফুটবল সচিবের এই পোস্টের জবাবে আবার অস্কার লেখেন, ‘সৈকত, আপনার মধ্যে যদি এখনও সততা এবং মর্যাদাবোধের সামান্যতম অনুভূতি থেকে থাকে, তাহলে আমার বলা যে কোনও বক্তব্যকে তথ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জ করুন অথবা ভুল প্রমাণ করুন। আপনি যদি এই বিষয়টি আরও বাড়াতে চান, তাহলেও আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আপনাদের গোষ্ঠীর তরফ থেকে হওয়া ব্যক্তিগত আক্রমণ, পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত কর্মকাণ্ড এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার বিষয়ে আমার কাছে বিস্তর প্রমাণ রয়েছে। তাই আসুন, গল্প তৈরি করা বা ভয় দেখানোর পরিবর্তে তথ্য এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টির মোকাবিলা করি’।
এর পরে কী হতে চলেছে, তা কেউই জানে না। মাঠের বাইরে প্রাক্তন কোচ বনাম কর্মকর্তাদের এই দ্বৈরথ কতদূর পর্যন্ত যায়, সেটাই দেখার।




