• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 11 September, 2026

টোল প্লাজায় আর থামতে হবে না, ২০২৭ সালের মার্চেই দেশজুড়ে বাধামুক্ত পথ

ফাস্ট্যাগের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন গড়করি। তাঁর দাবি, বর্তমানে জাতীয় সড়কের টোল আদায়ের ৯৮ শতাংশের বেশি ফাস্ট্যাগের

টোল প্লাজায় আর থামতে হবে না, ২০২৭ সালের মার্চেই দেশজুড়ে বাধামুক্ত পথ

Toll Plaza Photo-SNS

জাতীয় সড়কে টোল দেওয়ার জন্য আর গাড়ি থামিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। টোল প্লাজার বাধা পেরিয়ে সরাসরি গাড়ি ছুটবে গন্তব্যের দিকে। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে দেশজুড়ে এই বাধামুক্ত টোল ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। শুক্রবার মুম্বাইয়ে ‘গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৬’-এ এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি।নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে ‘মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো’ বা এমএলএফএফ প্রযুক্তি। রাস্তার উপরে বসানো গ্যান্ট্রির মাধ্যমে গাড়িকে শনাক্ত করা হবে। ফাস্ট্যাগ এবং গাড়ির নম্বর প্লেটের তথ্য মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোলের টাকা কেটে নেওয়া হবে। ফলে টোল দেওয়ার জন্য গাড়ির গতি কমানো বা থামানোর প্রয়োজন হবে না।

গড়করি জানিয়েছেন, ২০২৬-এর ডিসেম্বরের মধ্যে এই ব্যবস্থার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তাঁর কথায়, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সমস্ত টোল প্লাজাকে এমএলএফএফ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। গত মে মাসে দিল্লিতে দেশের প্রথম বাধামুক্ত বা ব্যারিয়ার-ফ্রি টোল ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।

কেন্দ্রের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় শুধু যাত্রার সময়ই কমবে না, জ্বালানি ও টোল পরিচালনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বর্তমানে টোল প্লাজা পরিচালনায় মোট আদায়ের প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ খরচ হয়। এমএলএফএফ চালু হলে তা ২ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার আশা করছে কেন্দ্র। এতে বছরে প্রায় ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।

ফাস্ট্যাগের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন গড়করি। তাঁর দাবি, বর্তমানে জাতীয় সড়কের টোল আদায়ের ৯৮ শতাংশের বেশি ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে হচ্ছে। দেশে ১৩ কোটিরও বেশি ফাস্ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। আগে টোল প্লাজায় একটি গাড়িকে গড়ে প্রায় ১২ মিনিট অপেক্ষা করতে হত। ব্যস্ত কিছু প্লাজায় সেই সময় ৩০ মিনিটও ছাড়িয়ে যেত। ফাস্ট্যাগ চালুর পর অপেক্ষার সময় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

গড়করির দাবি, টোল প্লাজায় অপেক্ষা কমায় বছরে প্রায় ৭১ কোটি ঘণ্টা সময় এবং ৫৬ কোটি লিটার জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের আর্থিক মূল্য প্রায় ৫,২৫০ কোটি টাকা। পাশাপাশি, মানুষের বেঁচে যাওয়া সময়ের অর্থনৈতিক মূল্য বছরে প্রায় ৬৮,৫০০ কোটি টাকা।

এই ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে ‘ওয়ান ট্যাগ’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে ব্যাঙ্ক বদলালেও নতুন ফাস্ট্যাগ নিতে হবে না। একই ট্যাগ রেখে ব্যাঙ্ক বদল করা যাবে, অনেকটা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির মতো।পরবর্তী ধাপে প্রযুক্তির সাহায্যে টোল প্লাজায় গাড়ি থামার প্রয়োজনটুকুও পুরোপুরি দূর করা কেন্দ্রের লক্ষ্য। ফলে ভবিষ্যতের জাতীয় সড়কে টোল আদায় হবে চলন্ত গাড়ি থেকেই।