ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জাতীয় ক্রীড়া আইন, ২০২৫-এর আওতায় পড়বে? ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার কাছে এ বার সরাসরি সেই প্রশ্নের জবাব চাইল দেশের শীর্ষ আদালত।
মঙ্গলবার একাধিক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার করা মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ বিসিসিআই এবং রাজ্য সংস্থাগুলির আইনজীবীদের কাছে জানতে চায়, ২০২৫ সালের এই আইনে তাঁদের আধিকারিকদের নির্বাচনের শর্ত ও কার্যকাল কেন নিয়ন্ত্রিত হবে না? আদালত বিসিসিআই-কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছে।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাতীয় ক্রীড়া নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। অথচ বিসিসিআইয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল, এই আইন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ওড়িশা ক্রিকেট সংস্থার নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মামলায় ওড়িশা হাই কোর্টে দেওয়া হলফনামায় বোর্ড আগেই জানিয়েছিল, ক্রিকেটকে এখনও এই আইনের আওতায় আসার জন্য ‘নির্দিষ্ট খেলা’ হিসাবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।
কেন জাতীয় ক্রীড়া নীতির আওতায় আসতে চায় না বিসিসিআই? বোর্ডের দীর্ঘদিনের যুক্তি, তারা সরকারের কাছ থেকে কোনও আর্থিক অনুদান নেয় না। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অধীনে তাদের আসার প্রশ্নও ওঠা উচিত নয়। এটাই তাদের অবস্থান। যদিও মঙ্গলবারের শুনানির পর এই যুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এই আইনের আওতায় এলে বিসিসিআইয়ের উপর নিয়ন্ত্রণের মাত্রা বাড়তে পারে। জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির জন্য একটি নিয়ন্ত্রকারী এবং স্বীকৃতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ তৈরির কথা রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই-এর আওতাতেও জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলি আসবে, যে ব্যবস্থার বিরোধিতা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিসিসিআই।
অন্য দিকে, বোর্ড ও তাদের অনুমোদিত সংস্থাগুলি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নিজেদের প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী কোনও পদাধিকারীকে টানা দু’টি মেয়াদে দায়িত্বে থাকার পরে তিন বছরের ‘কুলিং-অফ’ পিরিয়ডে যেতে হয়। জাতীয় ক্রীড়ানীতিতে এই নিয়মেও পরিবর্তন আনতে হবে বোর্ডকে।
তাই সুপ্রিম কোর্টের এই প্রশ্নের পর নজর থাকবে বিসিসিআইয়ের জবাবের দিকে। ক্রিকেটকে জাতীয় ক্রীড়া আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বোর্ডের আপত্তির যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।




