• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 6 September, 2026

বেসরকারিকরণের পথে মহাকাশ গবেষণা, ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কর্মীদের

বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ গবেষণার দরজা খুলে দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই পথেই কি ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাবে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা?

বেসরকারিকরণের পথে মহাকাশ গবেষণা, ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কর্মীদের

pic-x

বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ গবেষণার দরজা খুলে দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই পথেই কি ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাবে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা? ইসরো কি আর উৎক্ষেপণযান তৈরি করবে না? মহাকাশযান ও উপগ্রহ নির্মাণের কাজও কি চলে যাবে বেসরকারি সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে? তা হলে ইসরোর কর্মীদের ভবিষ্যৎই বা কী? একের পর এক এমন প্রশ্ন ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে ইসরোর অন্দরে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরোর চেয়ারম্যান তথা মহাকাশ দফতরের সচিব ভি নারায়ণনকে চিঠি দিয়েছে সংস্থার কর্মীদের ন’টি সংগঠন। গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঠানো ওই চিঠির বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে মহাকাশ গবেষণার বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারের নীতি স্পষ্ট করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইসরোতে কর্মী নিয়োগ হবে কি না এবং বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

কর্মী সংগঠনগুলির তালিকায় রয়েছে ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, এসএইচএআর এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, আইস্যাক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন এবং ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-এলপিএসসি-সহ ন’টি সংগঠন। সংগঠনগুলির বক্তব্য, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একের পর এক দায়িত্ব বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে তুলে দেওয়ার ফলে কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই উদ্বেগের নেপথ্যে রয়েছে ইন-স্পেসের চেয়ারম্যান পবনকুমার গোয়েঙ্কার সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে ইসরো আর উৎক্ষেপণযান তৈরি করবে না। সেই কাজ করবে বেসরকারি ক্ষেত্র অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরো প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে উৎক্ষেপণযান এবং সাধারণ উপগ্রহ তৈরির সুযোগ করে দেবে।

ইতিমধ্যেই ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণযানের প্রযুক্তি ও উৎপাদনের স্বত্ব হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গোয়েঙ্কার বক্তব্য, এর পরবর্তী ধাপে পিএসএলভি এবং এলভিএম-৩-এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের স্বত্বও অন্য সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ইসরো প্রায় ১২০ ধরনের প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে।

এই বিষয়টিই চিঠিতে তুলে ধরেছে কর্মী সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, ইসরোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা, প্রযুক্তি হস্তান্তরের নীতি, আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো কিংবা ভবিষ্যতে কর্মী নিয়োগ—কোনও বিষয়েই কর্মীদের সঙ্গে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়নি।

কর্মী সংগঠনগুলির আরও দাবি, গত ১২ বছরে ইসরোর প্রায় ৭০০ কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। কেন এত কর্মী সংস্থা ছাড়ছেন, তা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যেই উৎক্ষেপণযান ও উপগ্রহ নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে ইসরো সরে গেলে সংস্থার দক্ষতা ও কৌশলগত সক্ষমতার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

ফলে শুধু প্রযুক্তি হস্তান্তর নয়, বেসরকারিকরণের জেরে ইসরোর নিজস্ব গবেষণা ও উৎপাদন কাঠামোর ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়েই এখন স্পষ্ট জবাব চাইছেন সংস্থার কর্মীরা।