• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 6 September, 2026

উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর কাছে ভয়াবহ ধস, সতর্কবার্তা জারি করল প্রশাসন

চিয়াকুং নদীর উপর পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে গিয়ে নদীখাতে পড়েছে। ধসের জেরে তিস্তার স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে

উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর কাছে ভয়াবহ ধস, সতর্কবার্তা জারি করল প্রশাসন

North Sikkim Landslide Photo-ANI

উত্তর সিকিমে নামল ভয়াবহ ধস। পাহাড়ের বড় অংশ ভেঙে পড়ায় তুমুল আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে তিস্তা এবং চিয়াকুং নদীর জলপ্রবাহে সাময়িকভাবে বাধা তৈরি হয়েছে বলে খবর মিলেছে। রবিবার ভোরে এই ধস নেমেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। এই বড় ধস নেমেছে চুংথাং মহকুমার এলাকায়। উত্তর সিকিমে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহু পর্যটক বেড়াতে গিয়েছেন। আবার অনেকের টিকিট কাটা রয়েছে যাওয়ার জন্য। সুতরাং এই খবর পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সদ্য নেপাল যেভাবে তছনছ হয়ে গিয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে তাতে আতঙ্ক তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক।

চিয়াকুং নদীর উপর পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে গিয়ে নদীখাতে পড়েছে। ধসের জেরে তিস্তার স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর তাই রবিবার এই নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাগুলিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে চিয়াকুং নদীর উপরে, ওসি ভিরের বিপরীতে ধস নেমেছে। চুংথাং সাব-ডিভিশন পুলিশ এবং জেলা পুলিশের তরফ থেকে এই খবর পায় মাঙ্গন জেলা প্রশাসন। এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চুংথাং থানা এবং থেং চেক পোস্ট থেকে পুলিশকর্মীদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। ধসের জেরে কোথাও জল আটকে আছে কিনা এবং সেই জলের গতিবিধি কেমন সেটা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে খবর।

তবে সূত্রের খবর, নাগা ফরেস্ট এলাকার নাগা-তোসা রোডের নতুন রাস্তা কাটার অংশে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। থেং টানেলের বিপরীতে ওই এলাকায় ধস নেমে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। ধসের জায়গা তিস্তা এবং চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে। সুতরাং দুই নদীর জলপ্রবাহেই প্রভাব পড়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ধসের পরে তিস্তা নদীর জল কিছু সময়ের জন্য সাময়িক প্রবাহ থমকে যায়। নদীর দু’পাশে জল জমতেও শুরু করেছিল। তবে এখন তিস্তার জলপ্রবাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। আর চিয়াকুং নদীতেও জল জমেছে। কিন্তু দুই নদীই এখন আংশিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। গোটা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে পুলিশ।

তাছাড়া ধসের পর কয়েক ঘণ্টায় সাংকালং এবং ফিদাং আউটপোস্ট এলাকায় তিস্তার জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক আছে। তবে নদীর জল অত্যন্ত ঘোলা হয়ে গিয়েছে। ওই এলাকা রিয়াং কংমা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং রংপো থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সিকিমের পুলিশ কন্ট্রোল রুম খুলেছে এবং তিস্তা নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলির জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আর জলস্তরে সামান্য পরিবর্তন হলেই দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।