আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে শুরু হতে চলেছে এশিয়ান গেমস। এই গেমসে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত থেকে ৭৭ জন অ্যাথলিটের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই দলে মেয়েদের বিভাগে ৪৩ জন ও ছেলেদের বিভাগে রয়েছেন ৩৪ জন অ্যাথলিট। এত বড় অ্যাথলিট দল এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে, কিন্তু এই দলে বাংলার কোনও অ্যাথলিট নেই। ভাবতে অবাক লাগে, রাজ্য অ্যাথলেটিকস সংস্থার পক্ষ এ ব্যাপারে কোনওরকম প্রতিক্রিয়া দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি। একটা সময় বাংলার সেরা অ্যাথলিটদের দেখতে পাওয়া যেত এশিয়ান গেমসে।

দিল্লিতে প্রথম এশিয়ান গেমসে বাংলার অ্যাথলিট বলাই দাস হাঁটা প্রতিযোগিতায় রুপোর পদক জিতেছিলেন। তারপরে বিভিন্ন এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলে বাংলার অ্যাথলিটরা থাকলেও এবারে কোনও অ্যাথলিটের নাম বাংলা থেকে দেখতে পাওয়া গেল না। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৭৮ সালেও ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে বাংলার কোনও অ্যাথলিট না থাকলেও ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন রীতা সেন। পরবর্তী সময়ে বাংলার হয়ে এশিয়াডে অংশ নিয়ে ১৯৯৪ সালের এশিয়ান গেমসে জ্যোতির্ময়ী শিকদার অংশ নিয়েছিলেন। জ্যোতির্ময়ী পদক জিতেছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি সোনা সহ তিনটি পদক নিয়ে ভারতকে উজ্জ্বল করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে পদক এনে দিয়েছেন সোমা বিশ্বাস, পিঙ্কি পরামানিক ও স্বপ্না বর্মণরা। এ বাদেও অন্য এশিয়াডে বাংলা থেকে বেশ কয়েকজন অ্যাথলিট অংশ নিয়েছিলেন। আর এবারে বাংলার কোনও অ্যাথলিটের নাম ভারতীয় দলে আসেনি। আসলে রাজ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলার অ্যাথলিটদের জন্য সেইভাবে কোনও কাজ হয় না। তারপরে নেই কোনও পরিকাঠামো। হয়তো সেই কারণেই কোনও কোনও অ্যাথলিট বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন ভিনরাজ্যে। এই ঘটনা বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। তবুও রাজ্য অ্যাথলেটিকস সংস্থার কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অ্যাথলেটিকস সংস্থায় নিজেদের পদ ধরে রাখার জন্য সব রকম প্রয়াস নিয়ে থাকেন কর্মকর্তারা। কিন্তু অ্যাথলিটদের উন্নতি করতে না পারলে বাংলা চিরদিনই বঞ্চিতের তালিকায় থাকবেন।




