• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 5 September, 2026

এশিয়ান গেমসের আগে কেন কন্টেনার জাহাজে রাত কাটাচ্ছেন ভারতীয় খেলোয়াড়রা? ক্রিকেটাররা থাকবেন কোথায়?

বাইরে থেকে দেখলে যেন মালবাহী জাহাজের কনটেনার। ভিতরে ঢুকলে দেখা যাবে অন্য ছবি। সেখানে রয়েছে শোওয়ার জায়গা, এসি, ছোট রান্নাঘর

এশিয়ান গেমসের আগে কেন কন্টেনার জাহাজে রাত কাটাচ্ছেন ভারতীয় খেলোয়াড়রা? ক্রিকেটাররা থাকবেন কোথায়?

PIC-X

বাইরে থেকে দেখলে যেন মালবাহী জাহাজের কনটেনার। ভিতরে ঢুকলে দেখা যাবে অন্য ছবি। সেখানে রয়েছে শোওয়ার জায়গা, এসি, ছোট রান্নাঘর, বাথরুম, ওয়াশিং মেশিন, জিনিসপত্র রাখার জায়গা। এই কনটেনারই এখন ভারতের এশিয়ান গেমসগামী খেলোয়াড়দের ঠিকানা!

তবে এ কোনো শাস্তি বলে ভাববেন না। বরং বলা যায়, নতুন করে অভ্যাস তৈরি করা। জাপানে গিয়ে যাতে সেখানকার থাকার পরিবেশ দেখে হকচকিয়ে না যান দেশের খেলোয়াড়রা, সে জন্যই এই অভিনব প্রস্তুতি নিয়েছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI)।

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে শুরু হচ্ছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। কিন্তু এ বার সেখানে কোনও ‘গেমস ভিলেজ’ থাকছে না। খেলোয়াড়রা থাকবেন হোটেল, ক্রুজ এবং কনটেনার-ধাঁচের অস্থায়ী আবাসনে। তাই আগেভাগেই সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পাতিয়ালা ও বেঙ্গালুরুর সাই কেন্দ্রগুলিতে তৈরি হয়েছে এমন অস্থায়ী কনটেনারের ভিতর ঘর।

 

কেন এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত?

 

ধারনাটা একেবারে পরিষ্কার। জাপানে গিয়ে ভারতের খেলোয়াড়দের যাতে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কোনও বাড়তি চাপে পড়তে না হয়। সাইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর বিনীত কুমার বলেছেন, ‘যখন ঠিক হয়েছিল যে এশিয়ান গেমসে থাকার ব্যবস্থা অন্য রকম হবে—কনটেনার, ক্রুজ ইত্যাদিতে, কোনও অ্যাথলিট ভিলেজে নয়—তখনই ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাবনা ছিল, খেলোয়াড়দের আগে থেকেই এই ধরনের পরিবেশে অভ্যস্ত করানো দরকার।’

কিন্তু এই প্রস্তুতি কেন এত জরুরি? বিনীতের ব্যাখ্যা, ‘আমরা চাই না খেলোয়াড়েরা আবদ্ধ জায়গায় গিয়ে অস্বস্তি বোধ করুন বা থাকার ব্যবস্থা দেখে বাড়তি চাপে পড়ে যায়। যাতে কোনও চাপ ছাড়াই তাঁরা গিয়ে খেলতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

 

‘এখানে জায়গাটা বেশ ছোট’

 

শটপুটার তেজিন্দরপাল সিং তূরও এই অভিনব ব্যবস্থায় বেশ খুশি। দু’বারের এশিয়ান গেমস সোনাজয়ী এক ওয়েবসাইটে বলেছেন, ‘বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও ভিতরটা বেশ ভাল। প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই রয়েছে। এমন জায়গায় এই প্রথম থাকছি। কিন্তু এখানে থেকে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়াটা ভাল হয়েছে।’

ছ’ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার তূরের কাছে জায়গা কম থাকার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘আমাদের যদি সরাসরি জাপানে গিয়ে এই ঘরে থাকতে হত, তা হলে প্রথম এক-দু’দিন এটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেত। অনেকে এই চাপটা নিতে পারত না। এখন আগেই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।’

ডিসকাস থ্রোয়ার সীমা কালিরামনা তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেছেন, ‘দু’দিন এখানে ছিলাম। প্রথমে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হয়েছিল। থ্রোয়ারদের একটু বেশি জায়গা লাগে, আর এখানে জায়গাটা বেশ ছোট। তবে দ্বিতীয় দিন ভাল ঘুম হয়েছে। একজন ক্রীড়াবিদকে জীবনে অনেক কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, তবেই সাফল্য আসে।’

পাতিয়ালায় দু’টি কনটেনার— একটি পুরুষ ও একটি মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য। ২৮ অগস্ট থেকে তাঁরা থাকছেন এই দুই কন্টেনারে। নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী ক্রীড়াবিদেরা পালা করে সেখানে রাত কাটাচ্ছেন।

প্রায় ১৩ মিটার লম্বা এবং তিন মিটার চওড়া কন্টেনারের ভিতরে দু’টি টুইন-শেয়ারিং বেড রয়েছে, দু’টি এসি, ছোট রান্নাঘর, ফ্রিজ, সিঙ্ক, ওয়াশিং মেশিন, আলাদা বাথরুম এবং চারটি স্টোরেজ ক্যাবিনেট রয়েছে। বড় কিটব্যাগ রাখার জন্য খাটের নীচেও জায়গা রাখা হয়েছে। কোভিডের সময় ব্যবহৃত এই কন্টেনারগুলিকে এশিয়ান গেমসের পর নষ্ট করে ফেলা হবে না। পরে অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে সাই-এর।

 

ভারতের ক্রিকেটাররা কোথায় থাকবেন?

 

এখন প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় ক্রিকেটাররা, যাঁরা সাধারণত ক্রিকেট সফরে গিয়ে পাঁচতারা হোটেলে থাকতে অভ্যস্ত, তাঁরা এই কন্টেনারে কী করে থাকবেন? পাতিয়ালায় অন্যান্য খেলোয়াড়রা এই ব্যবস্থায় থাকার অভ্যাস করলেও ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা কিন্তু সেই অভ্যাস করে যাবেন না।

শ্রেয়স আইয়ার ও হরমনপ্রীত কৌর ও তাঁদের দলবল তাহলে কোথায় থাকবেন? ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রেয়স আইয়ার, বৈভব সূর্যবংশীদের জন্য নাগোয়া একিমে-তে একটি তিন তারা হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং হরমনপ্রীত, দীপ্তি শর্মাদের চার তারা মেইতেতসু গ্র্যান্ড হোটেলে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে এশিয়ান গেমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বোর্ডকে।

মেয়েদের দল ১৮ সেপ্টেম্বর সেখানে পৌঁছবে এবং ছেলেদের দল পৌঁছবে ২১ তারিখে। তাদের জন্য যে হোটেলগুলির ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেগুলি কেমন তা খতিয়ে দেখতে ভারতীয় বোর্ড আগামী সপ্তাহে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। তারা যদি মনে করে সব ঠিকঠাক আছে, তা হলে ক্রিকেটাররা এই হোটেলগুলিতে থাকবেন, না হলে বোর্ড তাদের নিজেদের খরচে হোটেলের ব্যবস্থা করবে বলে ঠিক করেছে।

 

‘আলাদা হোটেলে থাকলে সব দায়িত্ব বোর্ডের’

 

কিন্তু সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কি না, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, আইচি নাগোয়াতে গেমস চলাকালীন ১৭ হাজার খেলোয়াড়, কর্মকর্তা থাকবেন। ফলে হোটেলের ঘরের মারাত্মত অভাব থাকবে। এখন মাত্র দু’সপ্তাহ আগে বোর্ড ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের জন্য মাঠের কাছাকাছি হোটেল খুঁজতে গেলে তা তারা পাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

 

কিন্তু ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার সিইও রঘুরাম আইয়ার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য যদি থাকার আলাদা ব্যবস্থা করে বোর্ড, তা হলে তাদের ম্যাচে ও অনুশীলনে যাতায়াত, খাওয়াদাওয়া এবং অন্যান্য সবরকম দায়িত্ব বোর্ডকেই নিতে হবে। ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা এইসব দায়িত্ব নেবে না। এবং আলাদা হোটেলে থাকলেও গেমসের যাবতীয় নিয়ম তাঁদের মেনে চলতে হবে। ডোপ টেস্টের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলিকেও ক্রিকেটারদের ‘লোকেশন’ বিস্তারিত জানাতে হবে।

এখন প্রশ্ন, ক্রিকেটারদের সুবিধাই ক্রিকেট বোর্ডের কাছে প্রাধান্য পাবে, নাকি ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার শর্তগুলিকে গুরুত্ব দেবেন তাঁরা? আগামী সপ্তাহেই বোঝা যাবে কী হতে চলেছে। তবে ক্রিকেটারদের থাকা নিয়ে বোর্ড ও ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার মধ্যে সংঘাত বাধলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।