স্বামী নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরও শেষ হয়নি অধিকার নিয়ে টানাপোড়েন। বরং সরকারি পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং চাকরির দাবিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি দুই স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতার আইনি সমাধান করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের রায়ে স্পষ্ট, পারিবারিক পেনশনে সমান অধিকার দুই স্ত্রীরই। তবে গ্র্যাচুইটির পুরো অর্থ পাবেন দ্বিতীয় স্ত্রী, কারণ তিনিই ছিলেন সরকারি নথিতে মনোনীত ব্যক্তি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় সরকারের কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল পর্ষদের এক কর্মীর ২০২৪ সালে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয়। মৃত কর্মীর দুই স্ত্রী ছিলেন। তিনি মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের আওতাধীন ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর প্রথম স্ত্রী পারিবারিক পেনশন, ডেথ গ্র্যাচুইটি এবং সহানুভূতিশীল নিয়োগের দাবি জানান। কিন্তু একই সুবিধার জন্য আবেদন করেন দ্বিতীয় স্ত্রীও। আর তাতেই শুরু হয় জটিলতা।
প্রথম স্ত্রীর দাবি ছিল, তাঁকে মৃত কর্মীর স্ত্রী নন বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিবাহবিচ্ছেদের শংসাপত্রও পেশ করা হয়। ওই শংসাপত্র দিয়েছিলেন এক কাজি। পরে অবশ্য তিনিই জানান, সেই শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে। কারণ, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে মৃত কর্মীর বিয়ে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে নথিভুক্ত হয়েছিল।
তবে এই বিয়ে বৈধ না অবৈধ, সেই বিতর্কে ঢোকেনি আদালত। বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র স্পষ্ট করে দেন, এই মামলায় মূল প্রশ্ন বিয়ের বৈধতা নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশন সংক্রান্ত নিয়মে দুই স্ত্রীর অধিকার কী, সেটাই বিবেচ্য।
আদালতের নজরে আসে কেন্দ্রীয় সরকারি পরিষেবা পেনশন সংক্রান্ত বিধির ৫০ নম্বর নিয়মের ৮(সি) উপধারা। সেখানে একাধিক স্ত্রী থাকলে পারিবারিক পেনশন তাঁদের মধ্যে সমান ভাগে দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই নিয়মের ভিত্তিতেই আদালত নির্দেশ দিয়েছে, প্রথম স্ত্রীকে পারিবারিক পেনশনের ৫০ শতাংশ দিতে হবে। সেই টাকা আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে অবশ্য রায় আলাদা। মৃত কর্মী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্র্যাচুইটির নমিনি করেছিলেন। ফলে এককালীন গ্র্যাচুইটির সম্পূর্ণ অর্থ দ্বিতীয় স্ত্রীই পাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
চাকরির দাবিতেও দুই মহিলার আবেদন একেবারে নাকচ করেনি আদালত। সহানুভূতিশীল নিয়োগের জন্য তাঁদের দু’জনের আবেদনই নিয়ম মেনে বিবেচনা করতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনগত যোগ্যতার পরীক্ষায় যিনি উত্তীর্ণ হবেন, চাকরি পাবেন তিনিই।
অর্থাৎ, স্বামীর মৃত্যুর পর দুই স্ত্রীর অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনে আদালত তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখল—পারিবারিক পেনশনে সমান ভাগ, গ্র্যাচুইটিতে নমিনির অধিকার এবং চাকরিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত।
মামলাটির নাম রিনা ইয়াসমিন বনাম দ্য ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য। ২ সেপ্টেম্বরের আদেশে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।




