• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 2 September, 2026

জন্ম থেকে হার্টে ফুটো, ১৩ বছর শুধু তারিখ পে তারিখ: অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় এইমসেই থামল পঞ্চদশী তন্বীর লড়াই

জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত কোটার তন্বীর মৃত্যু ঘিরে এইমস দিল্লির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের। মর্মান্তিক ঘটনায় উদ্বেল...

জন্ম থেকে হার্টে ফুটো, ১৩ বছর শুধু তারিখ পে তারিখ: অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় এইমসেই থামল পঞ্চদশী তন্বীর লড়াই

AIIMS Delhi (image: aiims.edu)

দিল্লির এইমসে (AIIMS Delhi) ১৩ বছর ধরে ঘুরেও শেষরক্ষা হল না। জন্মগত হৃদরোগে (congenital heart defect) আক্রান্ত রাজস্থানের কোটার ১৫ বছরের কিশোরী তন্বী পরিয়ানির মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার ভোরে। বাবা মুকেশ পরিয়ানির অভিযোগ, বারবার অস্ত্রোপচারের তারিখ ঠিক হয়েছে, আবার পিছিয়েও গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত মেয়ের প্রাণ বাঁচানো গেল না। এই মৃত্যু ঘিরে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলির দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

১৩ বছরের লড়াই

তন্বীর বয়স যখন মাত্র দুই, তখনই ধরা পড়েছিল জটিল হৃদরোগ। চিকিৎসকদের ভাষায়, ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট (ventricular septal defect) এবং তার সঙ্গেই পালমোনারি অ্যাট্রেসিয়া (pulmonary atresia)। সহজ কথায়, হৃদযন্ত্রের দুই প্রকোষ্ঠের মাঝের দেওয়ালে ফুটো, পাশাপাশি ফুসফুসে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী স্বাভাবিকভাবে না গড়ে ওঠার সমস্যা। ২০১৪ সালের ৩১ জানুয়ারি এইমসের নথিতে অস্ত্রোপচারের সুপারিশ করা হয়েছিল, খরচ ধার্য হয়েছিল প্রায় সোয়া লক্ষ টাকা। পরিবারের দাবি, ২০১৫ সালে অস্ত্রোপচারের দিনও ঠিক হয়েছিল, কিন্তু তা আর হয়নি।

এইমসের কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জারি (CTVS) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ভি দেবগৌরুর বক্তব্য, ২০১৮ সালে চিকিৎসকরা বুঝেছিলেন তন্বীর অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়, কারণ ফুসফুসে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী কার্যত অনুপস্থিত ছিল এবং হৃদযন্ত্রের গঠন অত্যন্ত জটিল আকার নিয়েছিল। তারপর থেকে ওষুধের মাধ্যমেই তার চিকিৎসা চলছিল। গত ২৪ অগস্ট হৃদযন্ত্র-ফুসফুস প্রতিস্থাপনের (heart-lung transplant) সম্ভাবনা যাচাই করতে ফের ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু তার আগেই সব শেষ।

রিপোর্টের ঠিক পরেই মৃত্যু

উল্লেখযোগ্য বিষয়, তন্বীর পরিবারের ১৩ বছরের এই লড়াই নিয়ে গত ১৮ আগস্ট একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তার ঠিক দুই সপ্তাহের মাথায় ঘটল এই মৃত্যু। এতে পরিবারের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের সাফ কথা, সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার হলে হয়তো মেয়েকে বাঁচানো যেত।

দেশজুড়ে একই ছবি

তন্বীর ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এইমস দিল্লিতেই হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি। মেরঠের এক মহিলাকে তো একরকম সরাসরি বলে দেওয়া হয়েছিল, তাঁর পালা আসতে ছয় বছর লাগবে। দেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য সরকারি হাসপাতালেই যদি এই হাল হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়, এই প্রশ্ন উঠছে স্বাস্থ্য মহলে।