• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 1 September, 2026

‘৯০ শতাংশ ভোটার বিজেপি থেকে সরে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না’, সাবধানবাণী আরএসএসের

অন্যদিকে এই পত্রিকায় যা লেখা হয়েছে সেটা যে রাজ্য বিজেপির উদ্দেশে তেমন কোনও দাবি করা হয়নি। তবে লেখা দেখে ধরে নেওয়া

‘৯০ শতাংশ ভোটার বিজেপি থেকে সরে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না’, সাবধানবাণী আরএসএসের

RSS Chief Mohan Bhagwat Photo-SNS

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু তারপর থেকেই অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে তোলাবাজির। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা এখন বিজেপিতে ভিড়ে গিয়েছে। সাংসদরাও বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। সুতরাং বিজেপির তৃণমূলীকরণ হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এইসব নিয়ে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এবার এমন সব অভিযোগ লিখে সাবধানবাণী দিল আরএসএসের মুখপত্র স্বস্তিকা। আর তার পর থেকেই রাজ্য-রাজনীতিতে ঝড় বইতে শুরু করেছে। কারণ বিজেপির অন্দরে এমন সব হচ্ছে সেটা কার্যত প্রমাণিত হয়ে গেল। এইসব রোগ থেকে দূরে থাকতে হবে বলেই এমন সাবধানবাণী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কাদের উদ্দেশে এমন লেখা সেটা উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে যাতে আগের বিষয়গুলি আর না ঘটে। সেখানে যদি আগের মতোই কাজকর্ম হতে থাকে এবং তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা বিজেপিতে এসে ভিড় জমান তাহলে ভোটার সরে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না। এমনই সাবধানবাণী উঠে এসেছে স্বস্তিকা পত্রিকায়। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘যদি ২ শতাংশ মানুষ অথবা ভোটার মনে করে বিজেপি আদতে পনেরো বছর ধরে চলে আসা একটি ‘তস্কর/চোর’ সরকারের আর একটি রূপ। তবে তার ফলে ৯০ শতাংশ ভোটার বিজেপি থেকে সরে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না।’

অন্যদিকে এই পত্রিকায় যা লেখা হয়েছে সেটা যে রাজ্য বিজেপির উদ্দেশে তেমন কোনও দাবি করা হয়নি। তবে লেখা দেখে ধরে নেওয়া হচ্ছে এটা তাদেরকেই উদ্দেশ্য করেই সাবধানবাণী। কিছুদিন আগে এমন সতর্কবার্তা শোনা গিয়েছিল রাজ্য বিজেপির সভাপতির মুখ থেকে। শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করা যায়নি। যদি বলি ভুল বলব। কেউ চার ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আমাদের দলের কারও মধ্যে সুপ্ত কিছু বাসনা ছিল যেগুলি অতৃপ্ত অবস্থায় ছিল এতদিনে ফুটে বেরিয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তিন রাজ্যসভার সাংসদ বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় পৌঁছে গিয়েছেন। তারপর এমন লেখা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

তাছাড়া তৃণমূল সাংসদদের একটা অংশ অর্থাৎ ২০ জনকে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার এবং বিজেপি সাংসদের সঙ্গে বৈঠক, প্রাতঃরাশ, নৈশভোজ করতে। যে সাংসদরা এটা করেছেন তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এটা বিজেপিকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁরা মেনে নিতে নাও পারেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে স্বস্তিকা পত্রিকায়। আবার সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘যে জিতবে, তাঁকেই প্রার্থী করবে বিজেপি। দলের সঙ্গে কে কতদিন যুক্ত সেটা বিচার্য নয়।’ এই সব কারণেই কি সাবধানবাণী আরএসএসের? উঠছে প্রশ্ন।