• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 30 August, 2026

৩১ অগস্টের ডেডলাইন শেষ! আরও ৮ মাস সময় চাইল এসএসসি, নিয়োগ গড়াতে পারে মে ২০২৭ পর্যন্ত

ফের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন। শিক্ষক-সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ শেষ করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও আট মাস

৩১ অগস্টের ডেডলাইন শেষ! আরও ৮ মাস সময় চাইল এসএসসি, নিয়োগ গড়াতে পারে মে ২০২৭ পর্যন্ত

File Photo

ফের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন। শিক্ষক-সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ শেষ করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও আট মাস সময় চাইল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন। ৩১ অগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার যে সময়সীমা আগে দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়িয়ে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত করার আর্জি জানানো হয়েছে। পৃথক আবেদনে একই সময়সীমা চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদও।

২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতেই চলছে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ অগস্ট কমিশনের তরফে এই আবেদন করা হয়েছে।

কমিশনের দাবি, একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশিত হয়েছে। ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টির কাউন্সেলিংও শেষ। মোট ৩,৫৮৬ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে নবম-দশমের ক্ষেত্রে এখনও বড় অংশের কাজ বাকি। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইন্টারভিউ প্যানেল প্রকাশিত হলেও নথি যাচাই শুরু হয়েছে ২৩ মার্চ ২০২৬ থেকে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকায় রয়েছেন ৩৯,২১৮ জন। তাঁদের ইন্টারভিউ করতেই প্রায় চার মাস সময় লাগতে পারে। এরপর প্যানেল তৈরি, কাউন্সেলিং এবং সুপারিশের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

এর মধ্যেই ওবিসি সংরক্ষণ নীতি নিয়ে নতুন জটিলতার কথাও সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে এসএসসি। ১৮ মে ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকরি ও পদে ৬৬টি ওবিসি উপশ্রেণির জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। চলতি নিয়োগে সেই নীতি কী ভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও কমিশনের তরফে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।

তারপর ১২ অগস্ট কলকাতা হাই কোর্টের শ্রেয়সী দুঙ্গার মামলার নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়া কিছু ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি শংসাপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রধারীদের, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সাধারণ শ্রেণির প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে নবম-দশমের প্রাথমিক প্যানেল এবং একাদশ-দ্বাদশের চূড়ান্ত প্যানেলও নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে দাবি কমিশনের।

প্রশাসনিক স্তরেও ধাক্কার কথা জানিয়েছে এসএসসি। বিধানসভা নির্বাচনের পর মে মাসে কমিশনের চেয়ারম্যান এবং পাঁচটি আঞ্চলিক স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান একসঙ্গে পদত্যাগ করেন। এর জেরে সাময়িক প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য দিকে, পৃথক আবেদনে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময় চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদও। পর্ষদের দাবি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি এবং বিশেষ শিক্ষকদের মিলিয়ে ৪৬,৭১৪টি নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে এখনও একাধিক ধাপ বাকি।

পর্ষদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, একাদশ-দ্বাদশে প্রত্যাশিত ১২,৪৪৫টি সুপারিশের মধ্যে এখনও পর্যন্ত এসেছে ৩,২৬৩টি। ১,৫২৬ জনের প্রাথমিক নথি যাচাই শেষ হয়েছে। তাঁদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে, নবম-দশমের ২৩,২০৯টি, গ্রুপ সি-র ২,৯৮৯টি এবং গ্রুপ ডি-র ৫,৪৮৮টি সুপারিশ এখনও বাকি।

এর পাশাপাশি রয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার বিশাল প্রশাসনিক দায়িত্ব। প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী, প্রায় ২,৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র, ৭৫,৬০০ জন পরিদর্শক, ৫৫,০০০ পরীক্ষক, ৯,০০০ স্ক্রুটিনিয়ার এবং ১,৫০০ প্রধান পরীক্ষককে ঘিরে পর্ষদের বড়সড় প্রস্তুতি নিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা প্রশাসনিক ভাবে বাস্তবসম্মত নয় বলেই দাবি পর্ষদের।

বিশেষ শিক্ষা বিভাগের ২,৫৮৩ জন শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনীশ কুমার পাণ্ডে-সহ সংশ্লিষ্ট মামলার সঙ্গে যুক্ত ৬৮০টি নিয়োগও রয়েছে।

সব মিলিয়ে এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দাবি, ৩১ অগস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয়। তাই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত করার আবেদন করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ওবিসি রোস্টার ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা মেটানো, নথি যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিক্যাল পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ শেষ করতে চায় তারা।

এসএসসি-র আবেদনে ৪৬৮ দিনের বিলম্ব মকুবেরও আর্জি জানানো হয়েছে। কমিশনের দাবি, বিভিন্ন দফতর থেকে নথি সংগ্রহ, হাই কোর্টে চলা মামলা, সংরক্ষণ ও রোস্টার নিয়ে স্পষ্টীকরণ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে। তা ইচ্ছাকৃত নয়।

এখন গোটা বিষয়টির নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। আদালত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ৩১ অগস্টের ডেডলাইন কি শেষ পর্যন্ত মে ২০২৭-এ গিয়ে ঠেকবে? উত্তর মিলবে শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তেই।